ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়েই জিপিএ ৫
- গত বছরের তুলনায় নটর ডেমে ফলাফলে অবনতি

রায়হান মাহমুদ
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী রায়হান মাহমুদকে। অসুস্থ শরীর নিয়েই অংশ নিতে হয়েছে উচ্চ মাধ্যমিক (এইচএসসি) পরীক্ষায়। পদার্থবিজ্ঞান ও রসায়নের একাধিক পরীক্ষা দিয়েছেন হাসপাতাল থেকে আসা-যাওয়ার মধ্যে। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে এবার এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৫ পেয়েছেন তিনি।
আজ শনিবার ফল প্রকাশের পর নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে রায়হান বলেন, ‘পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষার দিন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হই। পরীক্ষা দিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হই। পরে হাসপাতাল থেকে এসে পরীক্ষা দিয়েছি। পরীক্ষা দিয়ে আবার হাসপাতালে গিয়েছি। রসায়ন প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষাও এভাবে দিয়েছি। আজ ফল হাতে পেয়ে দেখি জিপিএ ৫। প্রত্যাশার চেয়েও ভালো ফল হয়েছে।’
কলেজজীবনের শুরু থেকেই নানা চড়াই-উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাকে।
আগামীর সময়কে রায়হান বলেন, ‘কলেজের পরীক্ষায় কখনো ভালো ফল করেছি, আবার কখনো খারাপ হয়েছে। এইচএসসি পরীক্ষা শুরুর সময় মায়ের ডেঙ্গু সেরেছিল। এরপর পরীক্ষার মাঝামাঝি সময়ে আমিও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হই। সব প্রতিকূলতা পেরিয়ে জিপিএ ৫ পেয়েছি, এতে আনন্দিত। এখন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ার ইচ্ছা আছে। সেভাবেই প্রস্তুতি নেব।’
তার ভাষ্য, এবার অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থতা ও আবহাওয়াজনিত সমস্যার মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছেন। কারও কারও বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে পরীক্ষাকেন্দ্রে যেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে।
রায়হানের মতোই ভালো ফল করেছেন নটর ডেম কলেজের আরেক শিক্ষার্থী রোহেদ আল মাহমুদুজ্জামান।
তার মা জানিয়েছেন, পরীক্ষার রুটিনে ছুটি কম ছিল। ফলে তার ছেলের পুনরায় পড়া দেখার ক্ষেত্রে সমস্যা হয়েছে। এ ছাড়া ছিল ঝড়-বৃষ্টি। বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষার দিন তিনি নিজেই অর্ধেক ভিজে গিয়েছিলেন এই অভিভাবক।
নটর ডেমে কমেছে পাসের হার, জিপিএ ৫
নটর ডেম কলেজে ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় পাসের হার ও জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা গত বছরের তুলনায় কমেছে।
এ বছর কলেজটি থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩ হাজার ২৫৬ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩ হাজার ২১৮ জন। পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছে ২ হাজার ২২৯ জন। অকৃতকার্য ৩৮ জন।
ফলে প্রতিবছর ফল প্রকাশের দিন ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যায়, এবার ছিল তার ব্যতিক্রম। ফল প্রকাশের পরও ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল তুলনামূলক কম। তবে যারা ক্যাম্পাসে এসে ফল দেখেছেন, তাদের মধ্যে উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
গত বছর কলেজটির পাসের হার ছিল ৯৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। জিপিএ ৫ পেয়েছিল ২ হাজার ৪৫৪ জন। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে শূন্য দশমিক ৭৭ শতাংশ পয়েন্ট। অন্যদিকে, জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২২৫ জন।বিভাগভিত্তিক ফলাফলে দেখা গেছে, বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২ হাজার ১২২ জন পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছে ২ হাজার ৯৭ জন। জিপিএ ৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮০৭ জন। অকৃতকার্য ২৫ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ।ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে ৭৪৮ জন। এর মধ্যে পাস করেছে ৭৪১ জন এবং জিপিএ ৫ পেয়েছে ৩৩৩ জন। এ বিভাগে দুজন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। অকৃতকার্য হয়েছে পাঁচজন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৩৩ শতাংশ।অন্যদিকে, মানবিক বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিল ৪০২ জন। এর মধ্যে একজন অনুপস্থিত ছিল। পাস করেছে ৩৮০ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছে ২২ জন। এ বিভাগে জিপিএ ৫ পেয়েছে ৮৯ জন। পাসের হার ৯৪ দশমিক ৭৬ শতাংশ।আজ বেলা ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। এতে প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছেন। এবারের ফলে পাসের হার ৫২.১২ শতাংশ। গেল বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এবার জিপিএ ৫ পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ শিক্ষার্থী।এ বছর ১১টি বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে ছাত্র সংখ্যা ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রীসংখ্যা ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। এবার ছাত্রদের চেয়ে ২৬ হাজার ৬৪৫ জন বেশি ছাত্রী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন।




