প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় লটারিই বহাল

এআই নির্মিত ছবি
প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার চিন্তা করছে সরকার। এক্ষেত্রে আগের মতোই লটারির মাধ্যমেই প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দ্বিতীয় থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তির ক্ষেত্রে নামেমাত্র পরীক্ষা নেওয়া হতে পারে। আগামী ২০২৮ শিক্ষাবর্ষ থেকেই বহাল থাকতে পারে এই পদ্ধতি।
আজ সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভর্তি সংক্রান্ত একটি বৈঠক বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) প্রস্তাবের পর মন্ত্রণালয় বিষয়টি বিবেচনা নিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে মতামত আসে। জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচারক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল আগামীর সময়কে বললেন, আমরা দুই ধরনের প্রস্তাব দিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। মন্ত্রণালয় চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
গত মার্চ মাসে প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষা চালুর ঘোষণা দেয় সরকার। এরপর থেকেই অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়। অনেক পরিবার শিশুদের পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য কোচিং সেন্টার ও গৃহশিক্ষকের শরণাপন্ন হতে শুরু করে। এতে কোমলমতি শিশুদের ওপর অপ্রয়োজনীয় মানসিক চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কাও সামনে আসে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই আগের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার চিন্তা করছে সরকার।
এদিকে প্রথম শ্রেণিতে লটারি বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেছেন, সরকারের সিদ্ধান্তকে আমরা অভিনন্দন জানাই। শুধু প্রথম শ্রেণি নয়, প্রাথমিকের প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত সব শ্রেণিতে লটারির মাধ্যমে ভর্তি চালু করা উচিত। এতে ভর্তি কোচিং বাণিজ্য বন্ধ হবে, অভিভাবকদের আর্থিক ব্যয় কমবে এবং কোমলমতি শিক্ষার্থীরা অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা ও মানসিক চাপ থেকে রক্ষা পাবে।
সংগঠনটির দাবি, করোনাকালে সব শ্রেণিতে লটারিভিত্তিক ভর্তি চালু থাকায় কোচিং বাণিজ্যের প্রভাব কমেছিল এবং শিক্ষার্থী-অভিভাবক উভয়েই মানসিক ও আর্থিকভাবে উপকৃত হয়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিকের সব শ্রেণিতে লটারিভিত্তিক ভর্তি ব্যবস্থা চালুর আহ্বান জানান তারা।
বার্ষিক প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিসংখ্যান-২০২৪ অনুযায়ী, দেশে প্রথম শ্রেণিতে প্রায় ৩৫ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৭ লাখ ৪৮ হাজার ছেলে এবং ১৭ লাখ ৯৯ হাজার মেয়ে। এত বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর ভর্তি প্রক্রিয়াকে সহজ, স্বচ্ছ ও চাপমুক্ত রাখতে লটারিভিত্তিক ব্যবস্থাই সবচেয়ে কার্যকর বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।







