এআই নিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিন দিনের কর্মশালা শেষ

সংগৃহীত ছবি
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের তথ্য কতটা বিশ্বাসযোগ্য, মানুষের সিদ্ধান্ত ও আচরণে এর কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে এবং প্রযুক্তিটি কীভাবে নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়, এসব বিষয় নিয়ে নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত তিন দিনের ‘কর্নেল প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও সমাজ’ শীর্ষক কর্মশালা শেষ হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) বিভিন্ন আলোচনা ও কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে কর্মশালার শেষ দিনের আয়োজন সম্পন্ন হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনের অধিবেশন পরিচালনা করেন কর্নেল প্রযুক্তির অধ্যাপক মোর নামান।
দ্বিতীয় দিনের আলোচনায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে শেখার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। এআই শিক্ষার্থীদের দ্রুত তথ্য পেতে ও বিভিন্ন বিষয় বুঝতে সহায়তা করতে পারে। তবে এর ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও বোঝার ক্ষমতা কাজে লাগানোর গুরুত্বও তুলে ধরা হয়।
আলোচনায় এআইয়ের তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বক্তারা বলেন, এআই অনেক সময় অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে কোনো প্রশ্নের উত্তর দেয়। কিন্তু আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দেওয়া সেই উত্তর সব সময় সঠিক নাও হতে পারে। তাই এআই থেকে পাওয়া তথ্য যাচাই করে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এআইকে সঙ্গী হিসেবে ব্যবহারের বিষয়েও আলোচনা হয়। মানুষ কীভাবে এআইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করছে এবং অনেক সময় ব্যক্তিগত তথ্যও শেয়ার করছে, তা তুলে ধরা হয়। মানুষের সঙ্গী হিসেবে এআই কতটা কার্যকর হতে পারে এবং এর ব্যবহারে কী ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, তা নিয়েও আলোচনা করেন বক্তারা।
ই-মেইল, বার্তা ও বিভিন্ন ধরনের লেখা তৈরিতে এআইয়ের ব্যবহার নিয়েও আলোচনা হয়। এআইয়ের তৈরি কোনো বার্তা মানুষের সিদ্ধান্ত, মতামত বা আচরণে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, সেটিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
কর্মশালার শেষ অংশে এআইয়ের নিরাপত্তা ও অপব্যবহারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। ভুয়া বার্তা, প্রতারণা, ভুল তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া এবং অন্যের পরিচয় ব্যবহারের মতো সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের সচেতন করা হয়।
অধ্যাপক মোর নামান প্রযুক্তি ও সমাজের সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করেন। বিশেষ করে মানুষ কীভাবে অনলাইনে যোগাযোগ করে এবং এআই মানুষের আচরণে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা তার গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল বিভাগ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার যন্ত্রবিদ্যা শিক্ষার্থী শাখার সহযোগিতায় তিন দিনের এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা এআই কীভাবে কাজ করে, এর দেওয়া তথ্য কতটা যাচাই করা প্রয়োজন, সম্ভাব্য ঝুঁকি কী এবং প্রযুক্তিটি কীভাবে নিরাপদ ও দায়িত্বশীলভাবে ব্যবহার করা যায়, সে বিষয়ে ধারণা পেয়েছেন।




