কপ-৩১ সামনে রেখে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষায় ৭ সুপারিশ

সংগৃহীত ছবি
জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ৭টি সুপারিশ তুলে ধরেছে ‘ন্যাশনাল প্ল্যাটফর্ম ফর ডিজঅ্যাবিলিটি-ইনক্লুসিভ ডিজাস্টার রিস্ক রিডাকশন অ্যান্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যাডাপটেশন (ডিআইডিআরআর অ্যান্ড সিসিএ), বাংলাদেশ’।
সুপারিশে আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, দুর্যোগকালীন আশ্রয়কেন্দ্র ও আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা প্রতিবন্ধীবান্ধব করা এবং জলবায়ুনীতি প্রণয়নে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড ভালনারেবিলিটি স্টাডিজের (আইডিএমভিএস) সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরা হয়। প্ল্যাটফর্মটির উদ্যোগে এবং সেন্টার ফর ডিজঅ্যাবিলিটি ইন ডেভেলপমেন্টের (সিডিডি) কারিগরি সহায়তায় এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
কপ-৩১ প্রেসিডেন্সি ও নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে উপস্থাপন করা সুপারিশগুলো হলো—প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সুরক্ষাকে বৈশ্বিক জলবায়ু সুবিচারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া; আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল ও ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় বরাদ্দ তহবিলে প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ ও প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা; আগাম সতর্কবার্তা, উদ্ধার কার্যক্রম ও আশ্রয়কেন্দ্র শতভাগ প্রবেশগম্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা।
এছাড়া, দুর্যোগ-পরবর্তী নতুন প্রতিবন্ধিতা প্রতিরোধে জরুরি চিকিৎসা, শারীরিক পুনর্বাসন, সহায়ক প্রযুক্তি ও উপকরণ এবং দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা; প্রতিবন্ধী নারীদের জন্য জেন্ডার-সংবেদনশীল অভিযোজন ও জীবিকায়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন; জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জলবায়ুনীতির সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সংগঠনগুলোর (ওপিডি) অর্থবহ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা এবং জবাবদিহি প্রতিষ্ঠায় প্রতিবন্ধিতা-বিভাজিত তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ ও সুনির্দিষ্ট সূচক প্রণয়ন করার সুপারিশ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আইডিএমভিএসের অধ্যাপক ড. মাহবুবা নাসরীন বলেছেন, ‘ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি, লবণাক্ততা ও চরম তাপপ্রবাহের মতো বহুমুখী জলবায়ু ঝুঁকিতে রয়েছেন। এসব দুর্যোগে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা তুলনামূলক বেশি ক্ষতির শিকার হন। বিশেষ করে আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থায় তথ্যের প্রবেশগম্যতা এবং আশ্রয়কেন্দ্রে প্রবেশের সুযোগ সীমিত থাকায় দুর্যোগের সময় তাদের ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
তিনি বলেন, ‘দুর্যোগের সময় শারীরিক আঘাত, মানসিক ট্রমা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার অভাবে অনেকের মধ্যে নতুন করে দীর্ঘমেয়াদি শারীরিক সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধিতা তৈরি হচ্ছে। এ কারণে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার নীতি ও কর্মসূচিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের বিশেষ চাহিদা ও অধিকারকে গুরুত্ব দিতে হবে।’
আগামী ৯ থেকে ২০ নভেম্বর তুরস্কের আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৩১তম জলবায়ু পরিবর্তন সম্মেলন (কপ-৩১) সামনে রেখে ‘অ্যাডভান্সিং ক্লাইমেট জাস্টিস ফর পারসনস উইথ ডিজঅ্যাবিলিটিজ: প্রোটেক্টিং রাইটস, প্রিভেন্টিং ডিজঅ্যাবিলিটি-রিলেটেড হার্ম অ্যান্ড এনশিউরিং ইনক্লুসিভ ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্স ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক নীতি-প্রস্তাবনাটি তৈরি করা হয়েছে।
সমাপনী বক্তব্যে আইডিএমভিএসের পরিচালক ড. মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেছেন, ‘জলবায়ু ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে ধারাবাহিকভাবে কথা বলা এবং গণমাধ্যমে এসব বিষয় তুলে ধরা জরুরি। সমাজের অবহেলিত ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যাদের কণ্ঠস্বর যথাযথভাবে পৌঁছায় না, তাদের বাস্তবতা সামনে আনতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশ সরকারের জন্যও কয়েকটি অগ্রাধিকারমূলক সুপারিশ তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— ‘ন্যাশনাল অ্যাডাপটেশন প্ল্যান ২০২৩-২০৫০’ (এনএপি) এবং ‘স্ট্যান্ডিং অর্ডারস অন ডিজাস্টার ২০১৯’ (এসওডি) কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা। পাশাপাশি জাতীয় জলবায়ু বাজেটে প্রতিবন্ধীবান্ধব অর্থায়ন নিশ্চিত করা এবং তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটিতে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।



