পাবিপ্রবিতে দুই শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে টাকা দাবির অভিযোগে, ৫ জন বহিষ্কার

সংগৃহীত ছবি
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পাবিপ্রবি) দুই শিক্ষার্থীকে জিম্মি করে জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে পাঁচ শিক্ষার্থীকে এক বছরের জন্য একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও চার শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের রাসেল আহমেদ ও মো. ফয়সাল আহমেদ এবং স্থাপত্য বিভাগের মো. শোয়েব উল হক, মাহমুদ হাসান ও আবদুল্লাহ তাইয়্যেব তকি।
শোকজের জন্য চিহ্নিত চার শিক্ষার্থী হলেন ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইসিই) বিভাগের ফয়সাল ইকবাল হিরন ও ঋতু সরকার এবং স্থাপত্য বিভাগের ইব্রাহিম খলিল ও রিয়াদ।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, একাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় গঠিত ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটির প্রতিবেদন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা বোর্ডের সুপারিশের ভিত্তিতে শাস্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ৭৭তম রিজেন্ট বোর্ড সভায় ৭৭ দশমিক ২৭ নম্বর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এসব শাস্তি অনুমোদন করা হয়। শাস্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে মা-বাবাসহ যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে মুচলেকা জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র আরও জানিয়েছে, শোকজের জন্য চিহ্নিত চার শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হবে। তাদের বিষয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হবে।
গত ২৪ আগস্ট সন্ধ্যা ৭টার দিকে একাডেমিক ভবন-৩-এর ষষ্ঠ তলায় ডিন অফিসের একটি কক্ষে আইসিই বিভাগের দুই শিক্ষার্থীকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখার অভিযোগ তোলেন অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা। এ সময় তাদের জিম্মি করে একজনকে মারধর, জোরপূর্বক ভিডিও ধারণ, ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ফয়সাল ইকবাল হিরনের অভিযোগ, তারা দুজন ওই কক্ষে আটকা পড়েন। তাকে জোর করে ভিডিওতে কথা বলতে বাধ্য করা হয় এবং মারধর করা হয়। ঘটনার রাতেই তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডিকে বিষয়টি জানান এবং লিখিত অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগে তিনি ৫০ হাজার টাকা দাবি এবং তার মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ নিয়ে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর ওই রাতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। মোবাইল ফোন নেওয়ার বিষয়টি শোয়েব স্বীকার করলেও ল্যাপটপ নেওয়ার কথা কেউ স্বীকার করেননি। তবে ল্যাপটপ নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করা হলেও পরদিন সকালে এক আনসার সদস্যের মাধ্যমে সেটি প্রক্টর অফিসে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।




