সরানো হচ্ছে জাকসু নির্বাচন কমিশন অফিস, বানানো হবে শিক্ষক সমিতির কার্যালয়

জাকসু নির্বাচন কমিশন অফিস
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদের (জাকসু) নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়কে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির কার্যালয় বানানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এ সিদ্ধান্তের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন শাখা ছাত্র ইউনিয়ন, জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্রশিবিরের নেতৃবৃন্দসহ অনেকেই। সামাজিক মাধ্যমে স্ট্যাটাসের মাধ্যমে আন্দোলনের হুশিয়ারিও দিয়েছেন কেউ কেউ। এটিকে শিক্ষাঙ্গণের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কবর রচনার উদ্যোগ বলেও উল্লেখ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ক্রিয়াশীল রাজনৈতিক ছাত্রসংগঠন।
অন্যদিকে উপাচার্য বলছেন, যখন সময় হবে তখন নির্বাচন দেওয়া হবে। এখন কার্যালয়টি অকার্যকর ফেলে রাখার যৌক্তিকতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
গত ২৯ অক্টোবর জানা যায়, গত ১৪ অক্টোবরের এক প্রশাসনিক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী জাকসু নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের আসবাবপত্র ৩০ অক্টোবর (শুক্রবার) দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরাতন ফজিলাতুন্নেসা হল সংলগ্ন বাসায় (ডি-৩৭ ও ডি-৩৮) স্থানান্তরিত করা হবে। এবং এই ফাঁকা হওয়া কার্যালয়টি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির কার্যালয় বানানো হবে।
এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগে থেকেই অফিস থেকে আসবাবপত্র সরানোর কাজ শুরু হয়। তবে, বিষয়টি জানাজানি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন বিরুপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। এতে আসবাবপত্র সরানোর কার্যক্রম বন্ধ হয়। ছাত্র সংগঠনের নেতারা অভিযোগ করছেন, ফ্যাসিবাদী কায়দায় শিক্ষার্থীদের গণতান্ত্রিক অধিকার ধ্বংসের পথ সুগম করতে জাকসু কার্যালয় বিলুপ্ত করা হচ্ছে।
তারা আরও বলছেন, জাকসু থাকলে শিক্ষার্থীদের অধিকারে হস্তক্ষেপ, কণ্ঠরোধসহ বিভিন্ন অন্যায় করা কঠিন হয়ে যায়। এ কারণে জাকসুকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করার নীল নকশা হাতে নিয়েছে প্রশাসন।
আসবাবপত্র সরানোর ঘটনার প্রতিবাদে ও শুক্রবার দুপুর আড়াই টায় নির্বাচন কমিশনের কার্যালয়ের আসবাবপত্র স্থানান্তরের প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন রুখতে আজ শুক্রবার দুপুর আড়াইটায় জাকসু কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। তারা অনতিবিলম্বে জাকসুর তফসিল ঘোষণা ও কমিশনের কার্যালয়ের অবস্থান বহালের দাবিতে স্লোগান দেন।
এ সময় শাখা ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক ও জাকসুর সাবেক যুগ্ম-সাধারন সম্পাদক ফেরদৌস আল হাসান বললেন, ১১শ জাকসুর তফসিল দেওয়ার পরিবর্তে নিবার্চন কমিশন অফিস অবকাঠামোগতভাবেই বিলীন করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে মূলত শিক্ষাঙ্গণের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রার কবর রচনা করে আবার আগের কালচারে ফিরে যাওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে প্রশাসন।
এদিকে, কয়েক দফা তারিখ পিছিয়ে নানা নাটকীয়তার পর গত বছরের ১১ সেপ্টেম্বর ১০ম জাকসু নির্র্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোট গণনায় ধীরগতি, নির্বাচন কমিশনার ও পর্যবেক্ষকদের একাংশের পদত্যাগ এবং এক নারী শিক্ষকের মৃত্যুসহ নানা ঘটনার পর নির্বাচনের ৩য় দিনের মাথায় ফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচিতরা শপথ নেন ১৭সেপ্টেম্বর। প্রায় ৩৩বছর পর নির্বাচিত এ জাকসুর মেয়াদ শেষ হয়েছে গত ১৭ সেপ্টেম্বর। মেয়াদ শেষ হওয়া প্রায় দেড় মাস হলেও এখনো ঘোষনা করা হয়নি নির্বাচনের তফসিল। নেওয়া হয়নি নির্বাচনের কোন উদ্যোগ। এরই মধ্যে নির্বাচন কমিশন অফিসকে অবকাঠামোগতভাবে বিলুপ্ত করে শিক্ষক সমিতির কার্যালয় বানানোর এ উদ্যোগকে জাকসু নির্বাচনের অনিশ্চয়তা হিসেবেই দেখছেন ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা।
জানতে চাইলে শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক ফাইজান আহমেদ অর্ক বলছেন, ‘নতুন প্রশাসন আসার পর যেখানে জাকসুর একটি নতুন রোডম্যাপ বা গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা করা উচিত ছিল, সেখানে নির্বাচন কমিশনের আসবাবপত্র বা কার্যালয় সরিয়ে নেওয়া অত্যন্ত নেতিবাচক ও হতাশাজনক। এ ধরনের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াটিকে প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং ইতিহাস ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে এর জবাবদিহিতা প্রশাসনকেই দিতে হবে ‘
অন্যদিকে, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল ইসলাম এ বিষয়ে স্পষ্ট করে জানান যে, ওই কক্ষটি আসলে মূলত শিক্ষক সমিতিরই কার্যালয় ছিল। সাময়িকভাবে জাকসু নির্বাচনের সময় ব্যালট বাক্স ও নির্বাচন সম্পর্কিত কাজের জন্য সেটি ব্যবহার করতে দেওয়া হয়েছিল। এখন ব্যালট বাক্সগুলো নিরাপদে সংরক্ষণ করে কক্ষটি শিক্ষক সমিতিকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি যুক্ত করেন, জাকসুর সাইনবোর্ড বা মূল প্রশাসনিক কাঠামো নষ্ট করা হচ্ছে না।



