পোশাক রপ্তানি
যুক্তরাষ্ট্রে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত
- জুনে দেশটিতে প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ

সংগৃহীত ছবি
বিশ্বের সবচেয়ে বড় পোশাক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে সেই সংকুচিত বাজারেও বাংলাদেশের অবস্থান তুলনামূলক স্থিতিশীল রয়েছে। যদিও ছয় মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কমেছে, এটি চীন ও ভারতের তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে জুন মাসে ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি, যা বছরের দ্বিতীয়ার্ধে পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেলের (ওটেক্সা) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে দেশটির মোট পোশাক আমদানি ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কমে ৩৫ দশমিক শূন্য ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে আমদানির পরিমাণ (স্কয়ার মিটার ইকুইভ্যালেন্ট-এসএমই) কমেছে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। তবে গড় ইউনিট মূল্য সামান্য, শূন্য দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়েছে, যা নির্দেশ করে যে, ভোক্তাদের চাহিদা দুর্বল থাকলেও উচ্চমূল্যের পণ্যের অংশ কিছুটা বেড়েছে।
এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক শূন্য ১ বিলিয়ন ডলার, যা এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ কম। তবে জুন মাসের চিত্র ভিন্ন। ওই মাসে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের আমদানি বেড়ে ৭৬৩ দশমিক ৫৭ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের জুনের তুলনায় ৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রতিযোগী দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভালো করেছে কম্বোডিয়া। দেশটির রপ্তানি মূল্য ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ বেড়েছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রবৃদ্ধি ৩ দশমিক ৪০ এবং ভিয়েতনামের ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ। অন্যদিকে পাকিস্তানের রপ্তানি ৩ দশমিক ৫০, বাংলাদেশের ৫ দশমিক ৭৫, ভারতের ২৫ দশমিক ২৭ এবং চীনের ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমেছে।
রপ্তানির পরিমাণ বা ভলিউমের চিত্রও একই ধরনের। কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম ও পাকিস্তান প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হলেও বাংলাদেশের ভলিউম কমেছে ৩ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে এই পতন ভারতের ২২ দশমিক ৭৪ এবং চীনের ২৬ দশমিক ৩০ শতাংশ পতনের তুলনায় অনেক কম।
মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা দেখা গেছে। বাংলাদেশের গড় ইউনিট মূল্য ২ দশমিক ১৫ শতাংশ কমেছে, যা ভিয়েতনামের সমান। অথচ চীনের ইউনিট মূল্য কমেছে ১৫ দশমিক ৪৬ এবং ইন্দোনেশিয়ার ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ। অর্থাৎ বাজার ধরে রাখতে প্রতিযোগীরা আরও বেশি মূল্য ছাড় দিতে বাধ্য হলেও বাংলাদেশের মূল্য সমন্বয় তুলনামূলক সীমিত ছিল।
বাংলাদেশ অ্যাপারেল ভয়েসের প্রধান নির্বাহী মহিউদ্দিন রুবেল বলেছেন, বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের পুরো পোশাক আমদানি বাজারই সংকুচিত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের রপ্তানি কমলেও তা প্রধান প্রতিযোগী চীন ও ভারতের তুলনায় অনেক কম। তার মতে, জুন মাসে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি পাওয়ার ইঙ্গিত দেয় যে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে অর্ডার প্রবাহ উন্নত হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এখন প্রতিযোগিতা শুধু কম দামে নয়; বরং দ্রুত সরবরাহ, পণ্যের বৈচিত্র্য এবং ক্রেতাদের পরিবর্তিত চাহিদার সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর সক্ষমতার ওপর নির্ভর করছে। কম্বোডিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার প্রবৃদ্ধি সেই পরিবর্তনেরই প্রতিফলন। অন্যদিকে বাংলাদেশের জন্য জুন মাসের প্রবৃদ্ধি আশাব্যঞ্জক হলেও এই ধারা ধরে রাখতে উচ্চমূল্যের পণ্য, সিনথেটিক ও ম্যান-মেইড ফাইবারভিত্তিক পোশাক উৎপাদন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বাজার বৈচিত্র্যকরণের ওপর আরও জোর দিতে হবে।




