৫ বছরের রোডম্যাপ ঘোষণা
- রাজস্ব সম্মেলন আজ

সংগৃহীত ছবি
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের বড় লক্ষ্য সামনে রেখে দ্বিতীয়বারের মতো ‘রাজস্ব সম্মেলন’ করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আজ মঙ্গলবার এ সম্মেলন হবে। এতে উদ্বোধনী বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
সরকারের সামনে বর্তমানে একাধিক অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। ৩ লাখ কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে-স্কেলের অর্থের সংস্থান, জ্বালানি-সংকট মোকাবিলায় ভর্তুকি এবং বাড়তে থাকা বৈদেশিক ঋণের চাপ সামলাতে হচ্ছে সরকারকে। এ অবস্থায় রাজস্ব আয় বাড়ানোকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, শুধু চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নয়, আগামী পাঁচ বছরে রাজস্ব আদায়ের গতি বাড়ানোর কৌশল নিয়েও সম্মেলনে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে আয়কর, কাস্টমস ও ভ্যাট ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, অটোমেশন, রাজস্বের আওতা বাড়ানো এবং করদাতাদের সেবা সহজ করার বিষয়গুলো তুলে ধরা হবে।
সম্মেলনের মাধ্যমে এনবিআর কর্মকর্তাদের মধ্যে তৈরি হওয়া অসন্তোষ ও আস্থার সংকটও কাটানোর চেষ্টা করা হবে। তারা বলছেন, রাজস্ব সম্মেলনের অন্যতম লক্ষ্য হবে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের কাছে এনবিআরের কার্যক্রম সহজভাবে তুলে ধরা। পাশাপাশি এনবিআর সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা কমানো, কর প্রদান সহজ করা এবং রাজস্ব ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এনবিআরের সদস্য সৈয়দ মুসফিকুর রহমান আগামীর সময়কে বলেছেন, নতুন অর্থবছরের রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের কৌশলসহ আগামী পাঁচ বছরের রোডম্যাপ প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরা হবে। পাশাপাশি এই সম্মেলন যেন প্রতি বছর আয়োজন করা হয়, সে দাবিও জানানো হবে।
তিনি বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী এনবিআরের বিভিন্ন কার্যক্রম কীভাবে পরিচালিত হয়, তা উপস্থাপন করা হবে। বিশেষ করে, কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, ভ্যাট নিবন্ধন ও পেমেন্ট, অনলাইনে টিআইএন গ্রহণ, রিটার্ন দাখিল এবং অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হবে।
তার মতে, এই সম্মেলন ইতিবাচক প্রভাব রাজস্ব আদায়ে ফেলবে। কারণ অতীতে রাজস্ব আদায়ে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি গড়ে ১২ থেকে ১৩ শতাংশের মধ্যে থাকলেও এবার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে অনেক বেশি প্রবৃদ্ধি প্রয়োজন হচ্ছে।






