দেড় বছর পেছাল বিদ্যুৎ প্রকল্প
- পরামর্শক নিয়োগ জটিলতা
- কেএফডব্লিউর শর্তের বাধ্যবাধকতা
- ব্যয় বাড়ছে ২৪৯ কোটি টাকা মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব

জার্মানির উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কেএফডব্লিউর ঋণ ও অনুদানে বাস্তবায়নাধীন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (বাপবিবো) একটি প্রকল্প শুরুতেই প্রায় দেড় বছর পিছিয়ে গেছে। কেএফডব্লিউর শর্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পরামর্শক নিয়োগের প্রক্রিয়ায় এ সময় লেগেছে। এতে এখন প্রকল্পটির মেয়াদ দেড় বছর বাড়ানোর পাশাপাশি ব্যয়ও ২৪৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।
‘বাপবিবোর বিদ্যমান ৩৩/১১ কেভি পোল মাউন্টেড উপকেন্দ্রের নবায়ন ও আধুনিকায়ন (পর্যায়-১)’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রথম সংশোধনী প্রস্তাব করেছে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। এ নিয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য (সচিব) ড. নূরুন্নাহার চৌধুরী।
সভায় প্রকল্প বাস্তবায়নে দেরির কারণ জানতে চান সভাপতি। জবাবে প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, কেএফডব্লিউর ঋণের শর্ত অনুযায়ী প্রকল্পের শুরুতেই আন্তর্জাতিক ‘প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সুপারভিশন পরামর্শক (পিআইএসই)’ নিয়োগ করতে হয়। এই পরামর্শকের মাধ্যমে কেএফডব্লিউর নিজস্ব গাইডলাইন অনুযায়ী নকশা, ড্রয়িং, স্পেসিফিকেশন, বিল অব কোয়ান্টিটিজ (বিওকিউ), দরপত্রের নথিসহ প্রয়োজনীয় দলিল তৈরি করে মূল কাজ শুরু করতে হয়।
কিন্তু পরামর্শক নিয়োগের জন্য প্রথম দফায় আহ্বান করা দরপত্রে সর্বনিম্ন মূল্যায়িত প্রস্তাবিত দর ডিপিপিতে বরাদ্দ অর্থের তুলনায় প্রায় ১০৩ শতাংশ বেশি ছিল। ফলে ওই দরপত্র বাতিল করে পুনঃদরপত্র আহ্বান করতে হয়। এতে পরামর্শক নিয়োগ প্রক্রিয়াতেই প্রায় এক বছর ছয় মাস অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়। এর বাইরে কেএফডব্লিউর ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি), দরপত্র প্রক্রিয়া ও আনুষঙ্গিক কার্যক্রমেও সময় লাগে।
প্রকল্প পরিচালক জানিয়েছেন, ২০২৫ সালের ১৫ জানুয়ারি পরামর্শক নিয়োগ দেওয়া হয়। এরপর প্রকল্পের কার্যক্রমে গতি এসেছে।
সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা) নূর আহমদ জানিয়েছেন, প্রকল্পের ধীরগতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও উন্নয়ন সহযোগীর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। এখন প্রকল্পের কার্যক্রমে গতি এসেছে এবং সামনে তা আরও বাড়বে।
সূত্র জানায়, প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল ৬৭৯ কোটি ৭২ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থ ১৯২ কোটি ৩৮ লাখ ৯৪ হাজার, কেএফডব্লিউর ঋণ ও অনুদান ৪৭৭ কোটি ৪০ লাখ ৫৮ হাজার এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থার নিজস্ব অর্থ ৯ কোটি ৯২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা।
২০২২ সালের জুন থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ছিল প্রকল্পটির মেয়াদ। প্রথম সংশোধনীতে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মোট ব্যয় ৯২৮ কোটি ৩৬ লাখ ৬৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ মূল অনুমোদিত ব্যয়ের চেয়ে ২৪৮ কোটি ৬৪ লাখ ২৯ হাজার টাকা বা ৩৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ ব্যয় বাড়ছে। এর মধ্যে কেএফডব্লিউর অর্থায়ন বেড়ে ৭২৬ কোটি ৪ লাখ ৮৬ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।
প্রকল্পটির আওতায় ঢাকা, খুলনা, চট্টগ্রাম ও ময়মনসিংহ বিভাগের ১৪ জেলার ১৫টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এলাকায় ২৩টি পুরনো উডেন পোল মাউন্টেড উপকেন্দ্র নবায়ন ও আধুনিকায়ন করা হবে। এতে বিতরণ সক্ষমতা ৪১০ মেগাভোল্ট অ্যাম্পিয়ার (এমভিএ) থেকে বেড়ে ৫৩০ এমভিএ হবে। পাশাপাশি প্রকল্পভুক্ত এলাকায় ২ হাজার ৭৬০ কিলোমিটার বিদ্যমান বিতরণ লাইন রিকন্ডাক্টরিং করা হবে। এর আগে গত ৮ জুন অনুষ্ঠিত পিইসি সভায় প্রকল্পটির অগ্রগতি অত্যন্ত কম হওয়ায় সংশোধনী অনুমোদনের সুপারিশ না করে কয়েকটি সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়েছিল।



