কিছু ফ্রিজ থাকা বিও হিসাবে ফিরছে লেনদেনের সুযোগ
- নিষেধাজ্ঞা থাকছে অর্থ উত্তোলনে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শর্তসাপেক্ষে অবরুদ্ধ থাকা কিছু সুবিধাভোগী মালিক (বিও) হিসাবের ওপর থেকে লেনদেনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। তবে এসব হিসাব থেকে কোনো অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। আগে থেকে মার্জিন ঋণ থাকলে তা সমন্বয় করা যাবে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার বিএসইসির কমিশন সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেন, কিছু ব্যক্তির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্দিষ্ট কয়েকটি বিও হিসাবে শুধু লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এসব হিসাব থেকে কোনো ধরনের টাকা উত্তোলন করা যাবে না। তবে তারা শেয়ারবাজারে লেনদেন করতে পারবেন। সংশ্লিষ্ট হিসাবে মার্জিন ঋণ থাকলে সেটিও সমন্বয় করা যাবে। তিনি আরও বলেন, এ সিদ্ধান্ত সব বিও হিসাবের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়। নির্দিষ্ট কিছু হিসাবের মালিকদের আবেদনের ভিত্তিতেই কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও তাদের পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ সামনে আসে। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক গোয়েন্দা ইউনিট (বিএফআইইউ) অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধানের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ব্যাংক হিসাবের পাশাপাশি শেয়ারবাজারে থাকা বিও হিসাবও অবরুদ্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
একই সময়ে শেয়ারবাজারে প্রভাব বিস্তার, শেয়ারের দাম কারসাজি এবং সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করার অভিযোগও ওঠে। এসব হিসাব ব্যবহার করে শেয়ার ও অর্থ অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া, মালিকানা পরিবর্তন কিংবা সন্দেহজনক লেনদেনের সুযোগ বন্ধ রাখতেই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন ক্ষেত্রে আদালতের নির্দেশে সংশ্লিষ্ট সম্পদ ক্রোকের আইনি প্রক্রিয়াও এগিয়েছে।
বিপুলসংখ্যক বিও হিসাব অবরুদ্ধ থাকায় শেয়ারবাজারেও এর প্রভাব পড়ে। এসব হিসাবে থাকা অর্থ ও শেয়ার লেনদেনে ব্যবহার করতে না পারায় আটকে যায় বিনিয়োগকারীদের তহবিল। এতে বাজারে বিনিয়োগযোগ্য অর্থের প্রবাহ কমে যায়, যার প্রভাব পড়ে দৈনন্দিন লেনদেনে। এমন পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন ধরে শর্তসাপেক্ষে এসব বিও হিসাবে লেনদেনের সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সূত্র জানায়, বিএসইসির নতুন সিদ্ধান্তের ফলে অনুমোদন পাওয়া বিও হিসাবগুলো থেকে শেয়ার কেনাবেচা করা যাবে। পাশাপাশি আগে থেকে থাকা মার্জিন ঋণও সমন্বয়ের সুযোগ থাকবে। তবে অর্থ উত্তোলনের ওপর আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। অর্থাৎ এসব হিসাব পুরোপুরি অবমুক্ত করা হচ্ছে না, শুধু সীমিত পরিসরে লেনদেনের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
তবে এ সিদ্ধান্তের আওতায় ঠিক কতটি বিও হিসাব রয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কোন কোন হিসাবের মালিক এ সুবিধা পাচ্ছেন, সে তথ্যও জানা যায়নি। কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট কিছু হিসাবে শেয়ার কেনাবেচার সুযোগ ফিরলেও সেখান থেকে নগদ অর্থ উত্তোলন করা যাবে না। ফলে সংশ্লিষ্ট হিসাবগুলোর ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা আংশিকভাবে শিথিল হচ্ছে।




