শেয়ারবাজারে অযোগ্য খায়রুল বাশার

মো. খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদ
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সাবেক প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (সিআরও) মো. খায়রুল বাশার আবু তাহের মোহাম্মদকে দেশের শেয়ারবাজারে যেকোনো দাপ্তরিক পদে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সার্বিক দিক বিবেচনা করে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মূলত ২০২৪ সালে মশিউর সিকিউরিটিজসহ সাতটি ব্রোকারেজ হাউজের পরিদর্শন প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ে কমিশনে দাখিল করতে তিনি ব্যর্থ হন। এ ঘটনায় দায়িত্ব পালনে ‘চরম অবহেলা’ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে এমন শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে।
আগামীর সময়কে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে কমিশনের এনফোর্সমেন্ট বিভাগ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কোনো স্টক এক্সচেঞ্জের সিআরওর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হচ্ছে সদস্যভুক্ত ব্রোকারেজ হাউজগুলোর কার্যক্রম নিয়মিত পরিদর্শন করা, অনিয়ম শনাক্ত করা এবং পরিদর্শনের প্রতিবেদন সময়মতো কমিশনে জমা দেওয়া। এ প্রতিবেদনগুলোর ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ফলে এসব প্রতিবেদন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাখিল না হওয়ায় বাজার তদারকির গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়েছে বলে মনে করছে কমিশন।
তথ্য বলছে, খায়রুল বাশারের দায়িত্ব পালনে অবহেলার বিষয়টি প্রথম ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসে দেশের আলোচিত মশিউর সিকিউরিটিজ কেলেঙ্কারির ঘটনায়। ডিএসইর এই স্টেকহোল্ডার প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের ১৬১ কোটি টাকা আত্মসাৎ করে, যা দেশের শেয়ারবাজারের ইতিহাসে একক কোনো ব্রোকারেজ হাউজের অন্যতম বড় জালিয়াতির ঘটনা। এর মধ্যে গ্রাহকদের সমন্বিত হিসাব (সিসিএ) থেকে ৬৮ কোটি ৫৮ লাখ টাকা এবং শেয়ার বিক্রির মাধ্যমে ৯২ কোটি ৩৫ লাখ টাকা লোপাট করা হয়।
বিএসইসির অনুসন্ধানে উঠে আসে, প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও খায়রুল বাশার মশিউর সিকিউরিটিজে সময়মতো সরেজমিন পরিদর্শন ও কার্যকর নজরদারি নিশ্চিত করতে পারেননি। যদি যথাসময়ে পরিদর্শন ও তদন্ত পরিচালিত হতো, তাহলে এত বড় আর্থিক ক্ষতির ঘটনা অনেক আগেই শনাক্ত করা সম্ভব হতো এবং বিনিয়োগকারীদের বিপুল ক্ষতি এড়ানো যেত।
একই ধরনের নজরদারির অভাবে পিএফআই সিকিউরিটিজ, সিনহা সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ ও বানকো সিকিউরিটিজেও ব্যাপক অনিয়ম ঘটে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগেই বহু বিনিয়োগকারী বড় অঙ্কের ক্ষতির মুখে পড়েন। এর মধ্যে বানকো সিকিউরিটিজ থেকে ১৩৬ কোটি ৮৪ লাখ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ থেকে ৬২ কোটি ৯৮ লাখ এবং তামহা সিকিউরিটিজ থেকে ৫১ কোটি ৩০ লাখ টাকা লোপাট করা হয়।
এসব ভয়াবহ আর্থিক অনিয়মের পরিপ্রেক্ষিতে মশিউর সিকিউরিটিজে তার ভূমিকা সম্পর্কে ব্যাখ্যা দিতে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর খায়রুল বাশারকে বিএসইসিতে তলব করা হয়েছিল। তার বিরুদ্ধে কমিশনের নির্দেশনা এবং ডিএসই রেগুলেশনস, ২০১৩-এর রেগুলেশন ১৬(১০)(বি) ও ১৬(৩)(এ) যথাযথভাবে প্রতিপালনে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগ আনে কমিশন।
সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত চৌধুরী নাফিজ সরাফাতের সহযোগিতায় ২০২২ সালের ২৩ মার্চ ডিএসইর সিআরও পদে নিয়োগ পান খায়রুল বাশার।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, খায়রুল
বাশারের অযোগ্য ঘোষণার সিদ্ধান্তটি শেয়ারবাজারে সুশাসন ফেরাতে একটি দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ।




