১৩ ব্যাংক দেবে ১৬৩ কোটি বোনাস শেয়ার

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ১৩ ব্যাংক ২০২৫ সালের ব্যবসায় ১৬৩ কোটি ৩১ লাখ ৫ হাজার ৪২৭টি বোনাস শেয়ার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও বার্ষিক সাধারণ সভায় (এজিএম) শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদনের পর এসব শেয়ার বিনিয়োগকারীদের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স (বিও) হিসাবে পাঠানো হবে। ফলে ব্যাংকগুলোর পরিশোধিত মূলধন ১ হাজার ৬৩৩ কোটি টাকার বেশি বাড়বে। বর্তমান বাজারদরে এই শেয়ারগুলোর মূল্য প্রায় ৫ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা। ব্যাংকগুলোর আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে পাওয়া গেছে এসব তথ্য।
ঘোষিত লভ্যাংশের মধ্যে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক শুধু বোনাস শেয়ার এবং বাকি ১২টি ব্যাংক নগদের পাশাপাশি বোনাস শেয়ার ঘোষণা করেছে। একই সময়ে ১৫টি ব্যাংক মোট ২ হাজার ৬০৫ কোটি টাকার নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করেছে, যা বোনাস শেয়ারের চেয়ে প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।
এ বছর বোনাস শেয়ার ঘোষণার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, যারা শেয়ারহোল্ডারদের ১৫ শতাংশ হারে ২৯ কোটি ৮৬ লাখ বোনাস শেয়ার দেবে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা পূবালী ব্যাংক দেবে ২৬ কোটি ৩ লাখ এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা উত্তরা ব্যাংক দেবে ২৪ কোটি ২৬ লাখ শেয়ার। এ ছাড়া সিটি ব্যাংক ২২ কোটি ৮২ লাখ, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক ১২ কোটি ৯৮ লাখ, ব্যাংক এশিয়া ১০ কোটি ৯০ লাখ, সাউথইস্ট ব্যাংক ৯ কোটি ৩৬ লাখ, প্রাইম ব্যাংক ৬ কোটি ৯ লাখ, ট্রাস্ট ব্যাংক ৪ কোটি ৯৭ লাখ, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ৪ কোটি ৮৩ লাখ, ইস্টার্ন ব্যাংক ৪ কোটি ৭৯ লাখ, এনসিসি ব্যাংক ৪ কোটি ৪৪ লাখ ও মিডল্যান্ড ব্যাংক ১ কোটি ৯৮ লাখ বোনাস শেয়ার দেবে।
লভ্যাংশ নীতির পরিবর্তন ও ব্যাসেল-২ এর শর্ত পরিপালনের কারণে ব্যাংকগুলোকে অনেক সময় বাধ্য হয়ে বোনাস শেয়ার ইস্যু করতে হয়। শেয়ারবাজার বিশ্লেষক ও ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশের (আইসিবি) চেয়ারম্যান আবু আহমেদ মনে করেন, ব্যাংকগুলোর ক্ষেত্রে বোনাস শেয়ার দেওয়ার বিষয়টি একটু অন্যরকম। চাহিদা না থাকা সত্ত্বেও বোনাস শেয়ারের এই বাড়তি চাপে শেয়ারবাজার ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
সম্প্রতি বাংলাদেশ ব্যাংকের ২ হাজার কোটি টাকার নিচে পরিশোধিত মূলধন থাকা ব্যাংকগুলোর নগদ লভ্যাংশে নিষেধাজ্ঞা এবং আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বোনাস শেয়ার দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংকের ওপর থেকে শাস্তির বিধান তুলে নেওয়ার কারণে আবারও বোনাস শেয়ারের আধিক্য দেখা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিএসইর সাবেক পরিচালক শাকিল রিজভীর মতে, পরিচালকদের খামখেয়ালিপূর্ণ সিদ্ধান্তের কারণে বাজারে নেতিবাচক প্রভাব পড়লেও নগদ লভ্যাংশে কড়াকড়ি আরোপ করায় বোনাস শেয়ারের পরিমাণ আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। ২০১৮ সালে যেখানে ২৪টি ব্যাংক ২২০ কোটির বেশি বোনাস শেয়ার দিয়েছিল, সেখানে এবার তা অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত।
বোনাস শেয়ার ইস্যুর পর রেকর্ড ডেটে শেয়ারের দরের সঙ্গে তা সমন্বয় করা হয়। এর ফলে শেয়ারের আনুপাতিক দর কমে যায় এবং বিনিয়োগকারীদের পোর্টফোলিওতে আর্থিক মূল্যের তেমন কোনো পরিবর্তন হয় না। উদাহরণস্বরূপ, কোনো কোম্পানি ৫ শতাংশ বোনাস দিলে রেকর্ড ডেটের পর তার শেয়ারের দাম আনুপাতিক হারে কমে গিয়ে আগের মোট মূল্যের প্রায় সমানই থেকে যায়।




