শেয়ারবাজার
তৃণমূলে ছড়াবে বিনিয়োগ শিক্ষা

দেশের শেয়ারবাজার শহরকেন্দ্রিক সীমাবদ্ধ। বিনিয়োগের এই সংকীর্ণ গণ্ডি পেরিয়ে এবার তৃণমূল পর্যায়ে দেশের সাধারণ জনগণকে বিনিয়োগ শিক্ষায় শিক্ষিত করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এই উদ্যোগের প্রধান লক্ষ্য শুধু বিনিয়োগকারীর সংখ্যা বাড়ানো নয়, বরং সচেতন ও শিক্ষিত বিনিয়োগকারী তৈরি করা। সাধারণ মানুষকে নিরাপদ বিনিয়োগের সঠিক ধারণা দেওয়া, তাদের আর্থিক শিক্ষায় শিক্ষিত করা এবং নানা ধরনের গুজব ও প্রতারণামূলক বিনিয়োগ ফাঁদ থেকে সুরক্ষা দিতে এবার এই প্রক্রিয়ার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করা হচ্ছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে।
নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শেয়ারবাজার সংস্কার ও উন্নয়নের জন্য হাতে নেওয়া ১৮০ দিনের রোডম্যাপের (স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনা) অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাই অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিবের কাছে এ বিষয়ে চিঠি দিয়ে সহযোগিতা চেয়েছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ।
এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেছেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশনার আলোকে দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা ও নিরাপদ বিনিয়োগ বিষয়ে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের মাসিক সমন্বয় সভায় ‘ব্যবসা-বাণিজ্য’ শীর্ষক আলোচ্যসূচিতে নিয়মিতভাবে বিনিয়োগ শিক্ষা ও নিরাপদ বিনিয়োগ সচেতনতাবিষয়ক এজেন্ডা অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ফোকাল পয়েন্ট ও ডেপুটি ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা নির্ধারণ করা হয়েছে। এফআইডিকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বর্তমানে বিনিয়োগ বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞানের অভাবে এখনো অনেক মানুষ গুজব, উচ্চ মুনাফার প্রলোভন এবং অননুমোদিত বিভিন্ন স্কিম বা প্রতারণার ফাঁদে পড়ে। তৃণমূল পর্যায়ে আর্থিক জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ সফল হলে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও উন্নয়নে নতুন ভিত্তি তৈরি হবে।
এফআইডিকে বিএসইসি জানিয়েছে, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নীতিগত নির্দেশনার আলোকে দেশের শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রতারণামূলক বিনিয়োগ কার্যক্রম প্রতিরোধের লক্ষ্যে দেশব্যাপী ‘বিনিয়োগ শিক্ষা ও নিরাপদ বিনিয়োগ সচেতনতা কার্যক্রম’ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে এ উদ্যোগকে কার্যকর ও টেকসই করতে স্থানীয় প্রশাসনের সক্রিয় অংশগ্রহণ অপরিহার্য।
সহযোগিতার বিষয়ে চিঠিতে জানানো হয়, প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মাসিক সমন্বয় সভায় বিনিয়োগ শিক্ষার বিষয়টি নিয়মিত আলোচ্যসূচিতে রাখতে হবে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) আদলে শেয়ারবাজার-সংক্রান্ত ‘সহায়তা ডেস্ক’ স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি ফোকাল পয়েন্ট কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া জেলা তথ্য অফিসের মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় পর্যায়ে বিনিয়োগ শিক্ষাবিষয়ক প্রচার জোরদার, জেলা-উপজেলায় সেমিনার ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আয়োজন, সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে বিনিয়োগ শিক্ষার ওয়েব লিংক সংযুক্ত এবং অন্যান্য সহায়ক ও উদ্ভাবনী উদ্যোগ নিতে হবে।
বিএসইসি মনে করে, তৃণমূল পর্যায়ে বিনিয়োগ শিক্ষার জ্ঞান পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ সফল হলে দীর্ঘমেয়াদে সঞ্চয়ের সংস্কৃতি শক্তিশালী হবে।
এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আল-আমিন আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারে সাধারণ মানুষের (বিনিয়োগকারী) ক্ষতির প্রধান কারণ হলো সঠিক বিনিয়োগ শিক্ষার অভাব। অর্থমন্ত্রী শেয়ারবাজার বড় করার পরিকল্পনা করছেন। জেপি মর্গানের মতো বহুজাতিক ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান দেশে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই বিনিয়োগ সচেতনতা বাড়ানো এখন সময়ের দাবি।
এর আগে ২০১২ সালে বিএসইসির ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনায় বিনিয়োগ শিক্ষায় গুরুত্বারোপ করা হয়। তবে তা পুরোপুরি কার্যকর ছিল না। পরে ২০১৭ সালের ৮ জানুয়ারি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আনুষ্ঠানিকভাবে দেশব্যাপী বিনিয়োগ শিক্ষা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বিএসইসি চালু করে ফিন্যান্সিয়াল লিটারেসি বিভাগ।






