আর্থিক বিপর্যয়ে এসকে ট্রিমস, লভ্যাংশ না পেয়ে হতাশ বিনিয়োগকারীরা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত প্রকৌশল খাতের কোম্পানি এসকে ট্রিমস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড চরম আর্থিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। গত কয়েক বছরের ধারাবাহিক মুনাফা ও নিয়মিত লভ্যাংশ দেওয়ার রেকর্ড ভেঙে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি। ব্যবসায়িক এই বিপর্যয়ের কারণে ৩০ জুন, ২০২৫ সমাপ্ত অর্থবছরের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদ। একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) করতে না পারায় কোম্পানিটিকে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে জানা গেছে, বিগত বছরগুলোয় এসকে ট্রিমসের ব্যবসায়িক পারফরম্যান্স মোটামুটি সন্তোষজনক ছিল। ২০২১ সালেও কোম্পানিটি বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছিল। এরপরের বছরগুলোয় লভ্যাংশের হার কিছুটা কমে যথাক্রমে ৪ শতাংশ ও ৩ শতাংশে নামলেও ২০২৩-২৪ অর্থবছরে শেয়ারহোল্ডাররা ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ পেয়েছিলেন। তবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এসে লভ্যাংশের সেই চাকা সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে গেল।
কোম্পানির আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে দেখা যায়, বিগত অর্থবছরে যেখানে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ছিল ৫৪ পয়সা লাভ, সেখানে সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে তা বড় ধরনের ধসে রূপ নিয়েছে। বছর শেষে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ৩৩ পয়সা। আয়ের এই ধসের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে কোম্পানির প্রকৃত সম্পদ মূল্যের ওপরও। গত বছর যেখানে শেয়ার প্রতি সম্পদ মূল্য বা ন্যাভ ছিল ১৫ টাকা ৬৫ পয়সা, এবার তা কমে ১২ টাকা ৩ পয়সায় নেমে এসেছে। একই সঙ্গে কোম্পানির ব্যবসায়িক নগদ প্রবাহ বা ক্যাশ ফ্লোতেও বড় ধরনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। গত বছর শেয়ারপ্রতি পরিচালন নগদ প্রবাহ ৯০ পয়সা উদ্বৃত্ত থাকলেও এবার তা ২৫ পয়সা ঋণাত্মক বা ঘাটতিতে রূপ নিয়েছে।
ব্যবসায়িক এই মন্দাভাব চলতি বছরের সর্বশেষ অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনেও স্পষ্ট। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত ৯ মাসের সার্বিক হিসাবে কোম্পানিটির শেয়ারপ্রতি লোকসান দাঁড়িয়েছে ২ টাকা ২১ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ১ টাকা ২৫ পয়সা লাভ ছিল। শুধু জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের তিন মাসের প্রান্তিক হিসাব বিবেচনা করলেও দেখা যায়, যেখানে আগের বছর ৩৮ পয়সা লাভ হয়েছিল, সেখানে এবার লোকসান হয়েছে ৯০ পয়সা। এই ৯ মাসে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি সম্পদ মূল্য ১৫ টাকা ৫২ পয়সা থেকে কমে ১৩ টাকা ১১ পয়সায় নেমে এসেছে এবং নগদ প্রবাহেও বড় ধরনের ঘাটতি দেখা গেছে।
আর্থিক এই বিপর্যয়ের পাশাপাশি করপোরেট সুশাসনের ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা খেয়েছে কোম্পানিটি। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের ১১তম বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম আয়োজন করতে ব্যর্থ হয়েছে। লভ্যাংশ না পাওয়া এবং যথাসময়ে এজিএম করতে না পারার কারণে শেয়ারবাজারে কোম্পানির ক্যাটাগরি অবনমন বা ডাউনগ্রেড হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে এসকে ট্রিমস।
বাজার-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ধারাবাহিক মুনাফায় থাকা একটি কোম্পানি এভাবে হঠাৎ করে বড় অংকের লোকসানে পতিত হওয়া এবং নগদ অর্থের তীব্র সংকটে পড়া সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ উদ্বেগের। কোম্পানিটি যদি দ্রুত তাদের উৎপাদন ও বিপণন ব্যয় কমিয়ে ব্যবসায়িক গতি ফেরাতে না পারে, তবে শেয়ারবাজারে এর শেয়ারদর এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা— দুটোই বড় ধরনের সংকটে পড়বে।






