রপ্তানি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ চান ব্যবসায়ীরা

সংগৃহীত ছবি
এলডিসি উত্তরণের পর বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা বাড়বে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াতে হবে। এজন্য রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণ করতে হবে। একই সঙ্গে সরকারের অর্থনৈতিক কূটনীতি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) এই আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় আমাদের রপ্তানি ও বিনিয়োগের বড় সুযোগ আছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারি ও বেসরকারি খাতকে যৌথভাবে কাজ করতে হবে।
মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি সৌজন্য বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সাথে সাক্ষাৎ করেন ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ। বৈঠকে দেশের সামগ্রিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সাক্ষাৎকালে ডিসিসিআই সভাপতি তাসকীন আহমেদ বেশ কিছু প্রস্তাব তুলে ধরেন। তিনি বললেন, ‘এলডিসি পরবর্তী সময়ে টিকে থাকতে পণ্যের বহুমুখীকরণ এখন সময়ের দাবি। এই লক্ষ্য অর্জনে সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সাথে মুক্তবাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) করতে হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে এই কাজে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে।’
তাসকীন আহমেদ আফ্রিকার বাজার বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দেন। তিনি বললেন, ‘আফ্রিকার দেশগুলোর সাথে চুক্তিভিত্তিক চাষাবাদ (কন্ট্রাক্ট-ফার্মিং) করা সম্ভব। এছাড়া তথ্য-প্রযুক্তি ও কৃষি খাতে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বাড়ানোর প্রচুর সুযোগ রয়েছে।’
তবে এই সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরাসরি পেমেন্ট ব্যবস্থা সহজ করতে হবে। আর্থিক লেনদেন প্রক্রিয়া আরও দ্রুত করার দাবি জানান তিনি।
ব্যবসায়ীদের এই দাবির জবাবে শামা ওবায়েদ বললেন, ‘আফ্রিকা মহাদেশসহ সম্ভাবনাময় দেশগুলোর সাথে বাণিজ্য বাড়াতে সরকার নিরলস কাজ করছে। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এই কাজে সরকারি ও বেসরকারি খাতের যৌথ অংশীদারিত্ব ইতিবাচক ফল আনবে।’
আফ্রিকায় আমাদের পণ্যের অনেক চাহিদা রয়েছে। সেখানে পাট, চামড়া, ওষুধ, সিরামিক ও ফলমূলের বিশাল বাজার রয়েছে। এই সুযোগ কাজে লাগাতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের আরও মনোযোগী ও দূরদর্শী হতে হবে। এলডিসি পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বেসরকারি খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণে উদ্যোক্তাদের এগিয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি।
এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে ঢাকা চেম্বারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে ছিলেন সংগঠনের ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী এবং সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান। আরও উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ড. এ কে এম আসাদুজ্জামান পাটোয়ারী। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বৈঠকে অংশ নেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি অনুবিভাগের মহাপরিচালক ড. সৈয়দ মুনতাসির মামুন।




