বিএসইসিতে ১৩ দফা দাবিতে বিনিয়োগকারীদের স্মারকলিপি

শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়নে ১৩ দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ক্যাপিটাল মার্কেট ইনভেস্টর অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএমআইএ)।
আজ সোমবার নবনির্বাচিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খানের সঙ্গে দেখা করে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দেওয়া স্মারকলিপিতে এসব দাবি উপস্থাপন করা হয়।
এ সময় সংগঠনটির সভাপতি এস. এম. ইকবাল হোসেন, সমন্বয়ক নুরুল ইসলাম মানিকসহ অন্য প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্বাক্ষরিত স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের শেয়ারবাজার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘমেয়াদি মূলধন গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করলেও দীর্ঘদিন ধরে বাজার কারসাজি, করপোরেট সুশাসনের ঘাটতি, দুর্বল নিয়ন্ত্রক তদারকি, তথ্য প্রকাশে অনিয়ম এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ উপেক্ষিত হওয়ার কারণে বাজারে গভীর আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।
এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বিনিয়োগকারীদের অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে তালিকাভুক্ত কোনো কোম্পানি শেয়ারবাজার থেকে অর্থ সংগ্রহের পর ব্যবসায় ব্যর্থ হলে বা কার্যক্রম বন্ধ করে দিলে বা ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা, পরিচালক ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে আইনগত ও আর্থিক জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
পুঁজিবাজারের দুর্বল ও পরিত্যক্ত কোম্পানিগুলোর জন্য বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করতে হবে। এসব কোম্পানির কার্যক্রম পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই, প্রয়োজনে রাষ্ট্রীয় তত্ত্বাবধানে পরিচালনা অথবা যোগ্য উদ্যোক্তাদের কাছে হস্তান্তরের মাধ্যমে উৎপাদন ও ব্যবসা পুনরুজ্জীবিত করতে হবে, যাতে বিনিয়োগকারীদের সম্পদের মূল্য পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়।
বিসিএমআইএ বলেছে, কোনো কোম্পানিকে ডিলিস্টিংয়ের অনুমতি দেওয়ার আগে ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ শতভাগ সুরক্ষিত করতে হবে। এজন্য উদ্যোক্তাদের মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে শেয়ার বাইব্যাক অথবা বিনিয়োগকারীদের মূলধন ফেরতের ব্যবস্থা বাধ্যতামূলক করতে হবে।
সংগঠনটি আরও দাবি করেছে, দীর্ঘদিন লভ্যাংশ না দেওয়া, এজিএম আয়োজন না করা, কিংবা আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশে ব্যর্থ কোম্পানিগুলোর পরিচালনা পর্ষদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। শুধু কোম্পানিকে ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে স্থানান্তর না করে দায়ী পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিধান প্রণয়ন করতে হবে।
এ ছাড়া বিতর্কিত মার্জিন লোন নীতিমালা-২০২৫ ও মিউচুয়াল ফান্ড বিধিমালা-২০২৫ পুনর্বিবেচনা, বিনিয়োগকারী সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ, ব্যাংক একীভূতকরণে ক্ষতিগ্রস্ত শেয়ারহোল্ডারদের ন্যায্য ক্ষতিপূরণ, বাজার কারসাজি ও ইনসাইডার ট্রেডিংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন এবং তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর স্বচ্ছতা ও করপোরেট গভর্ন্যান্স নিশ্চিত করতে হবে।
স্মারকলিপিতে ক্ষুদ্র শেয়ারহোল্ডারদের তথ্যপ্রাপ্তি, ভোটাধিকার, লভ্যাংশ প্রাপ্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় কার্যকর অংশগ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি নতুন কমিশনের জন্য একটি সুস্পষ্ট ১০০ দিনের কর্মপরিকল্পনা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন, প্রযুক্তিনির্ভর, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পুঁজিবাজার গড়ে তুলতে একটি দীর্ঘমেয়াদি রোডম্যাপ প্রকাশ করতে হবে।
বিসিএমআইএ মনে করে, শেয়ারবাজারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো বিনিয়োগকারীদের আস্থা। সেই আস্থা পুনরুদ্ধারে দ্রুত, দৃশ্যমান ও ফলপ্রসূ পদক্ষেপ গ্রহণ করা গেলে দেশের শেয়ারবাজারে নতুন গতি ফিরে আসবে এবং বিনিয়োগকারী, উদ্যোক্তা ও রাষ্ট্রসহ সব পক্ষই উপকৃত হবে।




