কমোডিটি এক্সচেঞ্জ বিকাশে বড় প্রতিষ্ঠানে নজর
- নতুন ট্রেকের জন্য আবেদন আহ্বান

শেয়ারবাজারে দীর্ঘদিনের মন্দা, লেনদেনের স্থবিরতা ও তারল্য সংকট কাটাতে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই)। এর অংশ হিসেবে কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজার সম্প্রসারণে বড় দেশীয় শিল্পগোষ্ঠী, বহুজাতিক করপোরেট ও বিদেশি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করতে চায় তারা। এ লক্ষ্যে নতুন ট্রেডিং রাইট এনটাইটেলমেন্ট সার্টিফিকেট (ট্রেক) ইস্যুর জন্য আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে আবেদন আহ্বান করেছে সিএসই। আগামী ১৫ নভেম্বর বিকাল ৪টা পর্যন্ত জমা দেওয়া যাবে এ আবেদন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশের শেয়ারবাজার দীর্ঘদিন ধরে মূলত শেয়ার লেনদেননির্ভর। বাজারে বন্ড, ট্রেজারি বিল ও মিউচুয়াল ফান্ডের মতো বিনিয়োগপণ্য থাকলেও এসব খাতে প্রত্যাশিত লেনদেন ও বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ তৈরি হয়নি। ফলে বাজারে তারল্য সংকট কাটছে না। এমন পরিস্থিতিতে কমোডিটি ডেরিভেটিভসসহ নতুন আর্থিক পণ্য চালু এবং বড় প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর মাধ্যমে বাজারের পরিধি সম্প্রসারণ করতে চায় সিএসই।
সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে সিএসই। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে, শুধু প্রচলিত ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান নয়, দেশের বড় করপোরেট গ্রুপ, বিদেশি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান এবং কমোডিটি পণ্যের উৎপাদন, আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানও ট্রেকের জন্য আবেদন করতে পারবে। এর মাধ্যমে কমোডিটি বাজারে প্রাতিষ্ঠানিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর পাশাপাশি পণ্যভিত্তিক লেনদেনের জন্য একটি বিস্তৃত পরিসর তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে এক্সচেঞ্জটির।
আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বরাবর আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র সিলগালা করা খামে জমা দিয়ে খামের ওপর স্পষ্টভাবে ‘অফিস ফর ট্রেক’ লিখতে হবে। বিস্তারিত তথ্য সিএসইর ওয়েবসাইট এবং বিজ্ঞপ্তির কিউআর কোড স্ক্যান করে পাওয়া যাবে। আবেদন জমা ও যোগাযোগের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে দুটি কার্যালয়।
কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজারে পণ্যের মূল্য ওঠানামাজনিত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং ভবিষ্যৎ মূল্যভিত্তিক চুক্তিতে লেনদেনের সুযোগ থাকে। চাল, গম, তুলা, ভোজ্য তেল, সোনা ও জ্বালানির মতো পণ্যকে কেন্দ্র করে এ ধরনের বাজার গড়ে উঠতে পারে। এতে পণ্যের উৎপাদক, আমদানিকারক, ব্যবসায়ী ও সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলো সম্ভাব্য মূল্যঝুঁকি মোকাবিলায় হেজিংয়ের সুযোগ পাবে। আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের দাম ওঠানামা করলে আমদানিনির্ভর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয়েও প্রভাব পড়ে। কমোডিটি ডেরিভেটিভস বাজার কার্যকর হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ মূল্যঝুঁকি ব্যবস্থাপনার জন্য বিকল্প আর্থিক উপকরণ ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারে। তবে এ বাজারের কার্যকারিতা নির্ভর করবে উপযুক্ত পণ্য নির্বাচন, পর্যাপ্ত লেনদেন, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং অংশগ্রহণকারীদের সক্ষমতার ওপর।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সিএসইর কমোডিটি ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জ চালুর জন্য প্রয়োজনীয় আইনি কাঠামো, বিধিমালা এবং কারিগরি ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো তৈরির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে বাজারটি আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর জন্য প্রাতিষ্ঠানিক ও ব্যবহারিক প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এ বাজারে বড় শিল্পগোষ্ঠী ও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ট্রেক ইস্যুর উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নতুন আর্থিক পণ্য চালুর এ উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। বিশ্ব বিনিয়োগকারী সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় কমিশনের চেয়ারম্যান মাসুদ খান জানিয়েছেন, শেয়ারবাজারকে আধুনিক ও আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে নতুন নতুন আর্থিক পণ্য চালুর বিষয়টিকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে সিএসইর কমোডিটি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক ও কারিগরি প্রস্তুতি সম্পন্ন হওয়ায় এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর ক্ষেত্রে বিএসইসি সার্বিক সহযোগিতা করবে বলে তিনি জানিয়েছেন।
সিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম সাইফুর রহমান মজুমদার মনে করেন, গত কয়েক বছরে শেয়ারবাজারে সুশাসন ও কাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যার কারণে সাধারণ ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের সক্রিয়তা কমেছে। শুধু শেয়ার লেনদেনের ওপর নির্ভর করে এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ কঠিন। এজন্য পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের নতুন ক্ষেত্র তৈরি এবং পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়ানো প্রয়োজন।



