সূচক কমলেও লেনদেন বেড়েছে

ফাইল ছবি
দেশের শেয়ারবাজারে সপ্তাহের শুরুতে সূচক ও লেনদেনের মিশ্র প্রবণতায় দিন শেষ হয়েছে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দিনের প্রথমে সূচকের পতন দিয়ে লেনদেন শুরু হলেও কিছু সময় পরে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। তবে এরপর টানা পতনে শেষ হয় লেনদেন। যদিও সূচক সামান্য কমলেও বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে দেশের শেয়ারবাজার টালমাটাল। এর মধ্যে আজ থেকে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেছে সরকার। যার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে উৎপাদন ও পরিবহন ব্যবস্থায়। এমন অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতার মধ্যে বিনিয়োগকারীরা বর্তমানে কিছুটা ‘ওয়েট অ্যান্ড সি’ মুডে আছেন। বিশেষ করে বড় খাতের শেয়ারগুলোতে দরপতন বাজারকে চাপে রাখছে। এর মাঝেও আজ প্রকৌশল এবং বীমা খাতের শেয়ারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ ছিল লক্ষণীয়।
অস্থিতিশীল বাজারেও ডিএসইতে বীমা খাতের লেনদেন হওয়া প্রায় ৯১ শতাংশ কোম্পানির শেয়ার দর বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ৪৪টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৪০টির এবং দর কমেছে ৪টির।
সম্প্রতি দেখা গেছে, যেসব কার্যদিবসে ডিএসইর সূচক চাপে থাকে, ঠিক সেই দিনগুলোতেও বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর দাপটে বাজারের লেনদেনের গতি বজায় থাকছে।
লেনদেন এবং দর বাড়ার তালিকার শীর্ষ ২০ কোম্পানির মধ্যে প্রায়ই ৫ থেকে ৯টি কোম্পানিই থাকছে বীমা খাতের। সাধারণ বীমা এবং জীবন বীমা—উভয় খাতেই এই প্রবণতা লক্ষণীয়। এদিকে, রবিবার আগ্রহ হারিয়েছে খাদ্য খাতের শেয়ার। এই খাতের লেনদেন হওয়া ২১টি কোম্পানির মধ্যে দর কমেছে ১৮টির আর বেড়েছে ৩টির।
রবিবার ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ০.১৭ শতাংশ বা ৯.৩০ পয়েন্ট কমে ৫২৪৭ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। বড় মূলধনী কোম্পানিগুলো নিয়ে গঠিত ডিএসই-৩০ প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। শরিয়াহ পরিপালন করা কোম্পানি নিয়ে গঠিত ডিএসইএস সূচকও ৪.২২ পয়েন্ট বা ০.৩৯ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে ১০৬২ পয়েন্টে।
ডিএসইতে লেনদেন হওয়া ৪০৪টি কোম্পানির মধ্যে শেয়ার দর বেড়েছে ১২৫টির, কমেছে ২২৩টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৬টির। লেনদেন হয়েছে ৮১৯ কোটি ২০ লাখ টাকার শেয়ার।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) প্রধান মূল্যসূচক সিএএসপিআই ৯.৯ পয়েন্ট কমে ১৪৭৫১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। লেনদেন হওয়া ১৯৮ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৫৮টির এবং কমেছে ১০৮টির আর অপরিবর্তিত রয়েছে ৩২টির। আজ লেনদেন হয়েছে ৪১ কোটি ১৯ লাখ টাকার শেয়ার।
ডিএসইতে দর বৃদ্ধির শীর্ষে উঠে এসেছে রানার অটোমোবাইলস পিএলসি। এই প্রতিষ্ঠানের শেয়ার দর বেড়েছে ৯.৯৫ শতাংশ। ২১ কোটি ৫৬ লাখ টাকার ৫১ লাখ ৭৭ হাজার ৫১৩টি শেয়ার হাতবদল হয়েছে। ৯.৯৪ শতাংশ দর বেড়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে জনতা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি। ৫৫ লাখ টাকার ১৫ লাখ ১৮ হাজার ১৭৩টি শেয়ার হয়েছে হাতবদল। সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির দর বেড়েছে ৯,৯৮ শতাংশ। এর পরে রয়েছে প্রাইম টেক্সটাইল লিমিটেড, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড, ফনিক্স ফাইন্যান্স প্রথম মিউচুয়াল ফান্ড, এশিয়াটেক ল্যাবরেটরিজ লিমিটেড, প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেড।

