ব্যাংক খাতে কে এগিয়ে, কে পিছিয়ে

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত ব্যাংকগুলোর চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জানুয়ারি-জুন ২০২৬) আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু হয়েছে। এরমধ্যে বুধবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ব্যাংক খাতে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। একদিকে কয়েকটি ব্যাংক উল্লেখযোগ্য হারে মুনাফা বাড়িয়েছে, অন্যদিকে কিছু ব্যাংকের মুনাফা কমেছে এবং একটি ব্যাংকের লোকসান আরও বেড়েছে।
প্রকাশিত আর্থিক তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রবৃদ্ধি দেখিয়েছে মিডল্যান্ড ব্যাংক। ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি মুনাফা (ইপিএস) ১৪৭ শতাংশ বেড়ে ০.৪২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে ১ হাজার ২০০ শতাংশ, যা ছিল আলোচ্য সময়ে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি।
এর পরেই রয়েছে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি)। ব্যাংকটির অর্ধবার্ষিকে সমন্বিত ইপিএস ৮৩ শতাংশ বেড়ে ০.২২ টাকা হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস বেড়েছে ৮৮ শতাংশ।
ব্র্যাক ব্যাংকও শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ব্যাংকটির সমন্বিত ইপিএস ৬৪ শতাংশ বেড়ে ৫.০৭ টাকায় উন্নীত হয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি ছিল ৯০ শতাংশ। ব্যাংকটির ভাষ্য, নিট সুদ আয় ও বিনিয়োগ থেকে আয় বৃদ্ধির ফলে মুনাফা বেড়েছে।
অন্যদিকে উত্তরা ব্যাংকের সমন্বিত ইপিএস ৫৩ শতাংশ বেড়ে ২.২৩ টাকায় দাঁড়িয়েছে। কোম্পানির মতে, বিনিয়োগ থেকে আয়, কমিশন ও ফি-ভিত্তিক আয় বৃদ্ধি এবং ঋণ ও অগ্রিমের বিপরীতে প্রভিশন কম রাখার কারণে এ প্রবৃদ্ধি এসেছে। পাশাপাশি গ্রাহকের আমানত ও ব্যাংক ঋণ বৃদ্ধির ফলে পরিচালন নগদ প্রবাহও বেড়েছে।
এ ছাড়া এনসিসি ব্যাংকের সমন্বিত ইপিএস ১২ শতাংশ বেড়ে ২.০৮ টাকা হয়েছে। ব্যাংকটির ভাষ্য, বিনিয়োগ থেকে আয় বৃদ্ধি এবং শেয়ারের বিপরীতে রাখা প্রভিশনের একটি অংশ পুনরুদ্ধার হওয়ায় মুনাফা বেড়েছে।
অন্যদিকে দীর্ঘদিন লোকসানে থাকা এনআরবি ব্যাংক চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে মুনাফায় ফিরেছে। ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি মুনাফা হয়েছে ০.১৩ টাকা, যেখানে আগের বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ১.২৪ টাকা। ফলে ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থার ১১০ শতাংশ উন্নতি হয়েছে।
তবে সব ব্যাংকের চিত্র ইতিবাচক নয়। স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংকের শেয়ারপ্রতি মুনাফা ৯১ শতাংশ কমে মাত্র ০.০৩ টাকায় নেমে এসেছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে ইপিএস কমেছে ৯৪ শতাংশ। ব্যাংকটির ভাষ্য, বিনিয়োগ থেকে মুনাফা, কমিশন, এক্সচেঞ্জ আর্নিংস ও ব্রোকারেজ আয় কমে যাওয়া এবং আমানত ও প্লেসমেন্টের বিপরীতে মুনাফা পরিশোধের ব্যয় বৃদ্ধির কারণে পরিচালন মুনাফা কমেছে, যা ইপিএসে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
এদিকে আইসিবি ইসলামীক ব্যাংকের আর্থিক অবস্থার আরও অবনতি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি লোকসান ৭১ শতাংশ বেড়ে ০.৭২ টাকায় দাঁড়িয়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকেও লোকসান বেড়েছে ২৫ শতাংশ। ৩০ জুন পর্যন্ত ব্যাংকটির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য (এনএভিপিএস) ছিল ঋণাত্মক ২২.৭২ টাকা।
ব্যাংকগুলোর প্রকাশিত আর্থিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিনিয়োগ থেকে আয়, নিট সুদ আয় এবং কমিশন ও ফি-ভিত্তিক আয় বাড়াতে সক্ষম ব্যাংকগুলো ভালো মুনাফা করেছে। বিপরীতে বিনিয়োগ আয় ও ফি-ভিত্তিক আয়ে পতন এবং উচ্চ পরিচালন ব্যয়ের কারণে কয়েকটি ব্যাংকের মুনাফায় নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।




