পদ্মা ইসলামী লাইফের তহবিলে ঘাটতি, আটকে আছে গ্রাহকের দাবি

পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড। ছবি: সংগৃহীত
শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির আর্থিক সংকট কাটছে না। বরং কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের নেতিবাচক স্থিতি আরও বেড়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ জুন শেষে জীবন বীমা তহবিলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
কোম্পানির প্রকাশিত আর্থিক তথ্যমতে, চলতি বছরের এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে জীবন রাজস্ব হিসাবে মোট আয় থেকে দাবি ও অন্যান্য ব্যয়সহ মোট ব্যয় বাদ দেওয়ার পর ঘাটতি হয়েছে ৩ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। যদিও ২০২৫ সালের একই সময়ে এ ঘাটতি ছিল ৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রান্তিকভিত্তিক ঘাটতি কিছুটা কমেছে।
এদিকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে কোম্পানিটির জীবন রাজস্ব হিসাবে ঘাটতি হয়েছে ৮ কোটি ৫১ লাখ টাকা। আগের বছরের একই সময়ে এ ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে জীবন রাজস্ব হিসাবের ঘাটতি কমলেও কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিলের নেতিবাচক স্থিতি বেড়েছে।
কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৩০ জুন শেষে জীবন বীমা তহবিলের ঘাটতি ছিল ৩০৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা। এক বছরের ব্যবধানে তা বেড়ে ২০২৬ সালের ৩০ জুনে দাঁড়িয়েছে ৩২৭ কোটি ২০ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক বছরে তহবিলের ঘাটতি বেড়েছে প্রায় ১৯ কোটি ৪৯ লাখ টাকা।
গ্রাহকের দাবি পরিশোধে চাপ
কোম্পানিটির জীবন বীমা তহবিল ঋণাত্মক হয়ে পড়ায় গ্রাহকদের বীমা দাবি পরিশোধের সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। শতকোটি টাকার বীমা দাবি আটকে থাকার কথা জানা গেছে। ফলে গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধের পাশাপাশি কোম্পানির আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোম্পানিটির আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে ২০২৫ সালের আর্থিক হিসাব নিরীক্ষাতেও। নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানটি কোম্পানির ভবিষ্যৎ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে।
ফলে জীবন বীমা তহবিলের ঘাটতি কমানো, গ্রাহকদের দাবি পরিশোধ এবং আর্থিক ভিত্তি শক্তিশালী করা— এই তিনটি বিষয়ই এখন পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
দীর্ঘদিন ধরে লভ্যাংশের বাইরে
পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের আর্থিক সংকট দীর্ঘদিনের। প্রিমিয়াম আয় ও অন্যান্য আয়ের তুলনায় ব্যয়ের চাপ বেশি থাকায় প্রতিষ্ঠানটি আর্থিকভাবে চাপে রয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে শেয়ারহোল্ডারদের ওপরও। ২০২১ সালের পর থেকে কোম্পানিটি শেয়ারহোল্ডারদের কোনো লভ্যাংশ দিতে পারেনি।
২০১২ সালে শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়া পদ্মা ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্সের পরিশোধিত মূলধন ২৭২ কোটি ৯২ লাখ টাকা। এর মধ্যে উদ্যোক্তা ও পরিচালকদের বাদ দিয়ে অন্যান্য শ্রেণির বিনিয়োগকারীদের মালিকানা রয়েছে ৬৮ দশমিক ৪৪ শতাংশ।







