এশিয়াটিকের কারসাজি ঠেকানোর পর আরও সক্রিয় চক্র

সংগৃহীত ছবি
শেয়ারদর বাড়াতে উচ্চবিলাসী ভবন নির্মাণের মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) প্রকাশ করেছে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ। এর মাধ্যমে প্লেসমেন্ট শেয়ারধারীদের শেয়ার লক-ইন মেয়াদ শেষে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল প্রতিষ্ঠানটি।
তবে সেই পরিকল্পনা বুঝতে পেরে পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আরও আগ্রাসী হয়ে উঠেছে কারসাজিকারীরা।
গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএসইসির ৯৯৯তম কমিশন সভায় জানানো হয়, এখনও আইপিওর অর্থ ব্যবহার করতে পারেনি এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ কর্তৃপক্ষ। তবে প্রকল্প মূল্যায়ন, সম্ভাব্যতা যাচাই, রাজউকের বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং পূর্বঅভিজ্ঞতা ছাড়াই গত বছরের ২৮ সেপ্টেম্বর ৩২ তলাবিশিষ্ট বিল্ডিং নির্মাণের উচ্চাভিলাসী পরিকল্পনা সম্পর্কিত প্রাইস সেনসিটিভ ইনফরমেশন (পিএসআই) প্রকাশ করেছেন তারা। পরে প্লেসমেন্ট শেয়ার উচ্চ দরে বিক্রি করার পাঁয়তারা বুঝতে পারে বিএসইসি।
‘এ কোম্পানির লোকজনের বেনামে এবং তাদের কাছের মানুষদের রয়েছে অনেক প্লেসমেন্ট শেয়ার। যা উচ্চ দরে বিক্রির জন্য ৩২ তলা ভবন নির্মাণের পিএসআই প্রকাশ করে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের উদ্দেশ্য, যেন শেয়ারটিতে ঝুঁকে পড়েন বিনিয়োগকারী। এ কারণেই ওই কোম্পানির বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিয়েছে বিএসইসি‘, আগামীর সময়কে বলছিলেন বিএসইসির এক কর্মকর্তা।
বিএসইসি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, ‘সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ বিবেচনায় এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের উদ্যোক্তা, পরিচালক ও প্লেসমেন্ট শেয়ারহোল্ডারদের ধারণকৃত শেয়ারের ওপর বিদ্যমান লক-ইন শেষ হওয়ার তারিখ থেকে আরও ৩ বছর বা প্রস্তাবিত ৩২-তলাবিশিষ্ট বিল্ডিংয়ের নির্মাণকাজের সমাপ্তি ও বাণিজ্যিক ব্যবহার চালুকরণের (রাজউকের অকুপেন্সি সার্টিফিকেটসহ) মধ্যে যেটি পরে সম্পন্ন হবে, ততদিন পর্যন্ত লক-ইন বৃদ্ধি হবে।’
বিএসইসির এই সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ এশিয়াটিকের শেয়ার কারসাজির পরিকল্পনাকারীরা। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতিতে পুরো শেয়ারবাজার নেতিবাচক হলেও তারা শেয়ারদর বাড়াচ্ছেন কোম্পানিটির। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি কোম্পানিটির শেয়ারদর ছিল ৬৮.২০ টাকা। যা বিএসইসির সিদ্ধান্তের পরে ৩ কার্যদিবসে নেমে যায় ৫৭ টাকায়। তবে সেই শেয়ারটি সোমবার (৬ এপ্রিল) লেনদেন শেষে উঠে এসেছে ৮৬.৬০ টাকায়।
অথচ কোম্পানিটির শেয়ারদর ৫০ টাকা হওয়ার পেছনে কোনো কারণ খুঁজে পায়নি ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) কর্তৃপক্ষ। কোম্পানিটির গত বছরের ৩১ জুলাইয়ের ৪৪.৪ টাকার শেয়ারদর ১৭ আগস্ট বেড়ে হয় ৫২.২ টাকায়। ওইসময় ১০ কার্যদিবসে শেয়ারটির দর বৃদ্ধি পায় ৭.৮০ টাকা বা ১৮ শতাংশ। এর পেছনে কোনো যৌক্তিক কারণ নেই বলে উঠে এসেছে ডিএসইর তদন্তে। ফলে কোম্পানিটিতে বিনিয়োগের আগে সচেতন করা হয় বিনিয়োগকারীদের।
শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা শহরে এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজের কোনো ওষুধ পাওয়া যায় না। কৃত্রিম মুনাফা দেখানোর মাধ্যমে টিকে আছে কোম্পানিটি। যে কারণে ৫০ টাকা কাট-অফ প্রাইসের সর্বশেষ ২০২৫ অর্থবছরের ব্যবসায় শুধুমাত্র সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের জন্য ১০ শতাংশ বা প্রতিটি শেয়ারে ১ টাকা নগদ লভ্যাংশ ঘোষণা করে এশিয়াটিক ল্যাবের পরিচালনা পর্ষদ। অথচ কোম্পানিটির ওই বছরে শেয়ারপ্রতি মুনাফা দেখানো হয়েছে ২.০৯ টাকা।














