পাহাড়ে রঙ ছড়াচ্ছে বৈসাবি

ছবিঃ আগামীর সময়
বাংলা বর্ষবরণ ও বিদায়ের মহান উৎসব বৈসাবি ঘিরে মেতেছে পাহাড়। পার্বত্য অঞ্চলের বিচিত্র্য জনগোষ্ঠির উৎসব ঘিরে এখন উচ্ছ্বাস এখন দৃশ্যমান। তাতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে পাবর্ত্য শহর, নগর আর পল্লীগুলো।
চাকমারা বিজু, ত্রিপুরারা বৈসুক, মারমারা সংগ্রাই, তঞ্চঙ্গ্যারা বিষু ও অহমিয়ারা বিহু এভাবে তারা ভিন্ন ভিন্ন নামে আলাদাভাবে পালন করে এ উৎসব। সম্মিলিতভাবে ‘বৈসাবি’ নামেই পরিচিত। সোমবার বিকালে বৈসাবি উপলক্ষে রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের উদ্যোগে বর্ণিল সাজে বের করা হয় শোভাযাত্রা।
এতে বিভিন্ন নৃ-গোষ্ঠীর তরুণ-তরুণীরা নিজের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেয়। শোভাযাত্রাটি রাঙামাটি সরকারি কলেজ থেকে শুরু হয়ে শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষ হয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে।
সেখানে ফিতা কেটে পাঁচ দিনব্যাপি আয়োজিত মেলার উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। উপস্থিত অতিথিরা মেলার আনুষ্ঠানিকতা উদ্বোধন করেন বেলুন ও পায়রা উড়িয়ে। সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ছিল মনোজ্ঞ সম্প্রীতি নৃত্য।
প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান। ‘এ উৎসব আমাদের ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এ দিনটির জন্য আমরা অপেক্ষা করি। দিনটা আমাদের মিলনমেলা। সামাজিক এ উৎসব বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে। আমাদের ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতি হারিয়ে যাচ্ছে, যদিওবা সেটা চলমান প্রক্রিয়া, তারপরও এসব সংস্কৃতি আমাদের তুলে ধরা প্রয়োজন। সংস্কৃতির মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম হবে ঐতিহ্যবাহী অঞ্চল। এই অঞ্চলের ঐতিহ্যকে সংরক্ষণ করতে হবে,’ বলছিলেন তিনি।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী সাংস্কৃতিক ইনস্টিটিউট ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে বৈসাবি উৎসব। মেলায় বসানো হয়েছে বিভিন্ন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী পোশাকসহ স্থানীয় নারীদের হাতে ও তাঁতে বোনা কাপড়, ব্যাগ ও নানান হস্তশিল্পের স্টল।
সব মিলিয়ে স্টল সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। অনুষ্ঠানের প্রথম দিন বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ছাড়াও পরিবেশন করা হয় সাংগ্রাই জলোৎসব, ঐতিহ্যবাহী পাঁজন রান্না প্রতিযোগিতা, ত্রিপুরা গরাইয়া নৃত্য, ঘিলা খেলা, ম্রো জনগোষ্ঠীর নাটকসহ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
এছাড়া পাঁচ দিনব্যাপী মেলায় ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন খেলাধুলা, শিশু-কিশোরদের চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা, পিঠা উৎসব, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের ঐতিহ্যবাহী যন্ত্র সঙ্গীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, মঞ্চ নাটক থাকবে।
মেলা শেষ হবে আগামী ১০ এপ্রিল। ৯ এপ্রিল থেকে বিজু, সাংগ্রাই, বৈসু, বিষু, বিহু, সাংক্রাই, চাংক্রান, পাতা উদযাপন পরিষদের উদ্যোগে শুরু হবে চার দিনব্যাপী ঐতিহ্যবাহী অনুষ্ঠান। অন্যান্য অনুষ্ঠান ছাড়াও আগামী ১৭ এপ্রিল মারমা সংস্কৃতি সংস্থার সাংগ্রাই জলোৎসবে শেষ হবে পার্বত্য রাঙামাটির বৈসাবির আনুষ্ঠানিকতা।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কাজল তালুকদার। বিশেষ অতিথি ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) অনুপ চাকমা, রাঙামাটি রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ নাজমুল হক, জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী, সদর জোন কমান্ডার লে. কর্নেল মো. একরামুল রাহাত, পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব।















