এনসিপির নামে ছড়ানো ‘তেল লুটের ভিডিও’র আসল রহস্য কি?

ছবিঃ আগামীর সময়
হবিগঞ্জে দুর্ঘটনায় লাইনচ্যুত একটি তেলবাহী ট্রেন থেকে স্থানীয়দের তেল সংগ্রহের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে। একটি মহল দাবি করছে, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ট্রেন থামিয়ে তেল লুট করছে।
তবে আগামীর সময়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই দাবিটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আসল ঘটনা কী?
গত ১ এপ্রিল রাতে চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী একটি তেলবাহী ট্রেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মনতলা স্টেশনের কাছে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। ট্রেনের ছয়টি ওয়াগন লাইনচ্যুত হয়ে পড়লে ট্যাংকার ফেটে প্রচুর জ্বালানি তেল পার্শ্ববর্তী জমি ও খালে ছড়িয়ে পড়ে।
এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ঝুঁকি নিয়ে তেল সংগ্রহের জন্য ভিড় জমায়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ফুটেজে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ ও শিশুসহ সাধারণ গ্রামবাসীরা বালতি ও ড্রাম ভরে তেল সংগ্রহ করছে।
কিন্তু ফেসবুকের কিছু পোস্টে দাবি করা হয়েছে যে, ট্রেনটি থামিয়ে এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীরা ৪টি ট্যাংক লুট করেছে। কিন্তু ভিডিও বিশ্লেষণ এবং গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এটি কোনো পরিকল্পিত ‘লুট’ ছিল না, বরং দুর্ঘটনা পরবর্তী সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত তেল সংগ্রহের হিড়িক ছিল।
অনুসন্ধানের ফলাফল
দৈনিক ইত্তেফাকসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন এবং বৈশাখী টেলিভিশনের প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজ পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, দুর্ঘটনার কারণেই তেল ছড়িয়ে পড়েছিল। কোনো সংবাদমাধ্যমেই তেল সংগ্রহকারীদের সাথে নির্দিষ্ট কোনো রাজনৈতিক দল বা ছাত্র আন্দোলনের সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
সুতরাং, ট্রেন লাইনচ্যুতির পর সাধারণ মানুষের তেল সংগ্রহের ভিডিওকে ‘রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের লুটতরাজ’ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে, যা জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির একটি অপপ্রয়াস মাত্র।

