সূচক ৫ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন অবস্থানে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবস মঙ্গলবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সূচকের পতনে লেনদেন শেষ হয়েছে। এদিন সূচকের সঙ্গে কমেছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার দর। তবে টাকার পরিমাণে লেনদেন কিছুটা বেড়েছে।
আজকের পতনের মধ্য দিয়ে ডিএসই প্রধান মূল্যসূচক ৫ মাস আগের অবস্থানে চলে গেছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসের ২৩ তারিখ ডিএসইএক্স সূচক ছিল ৫ হাজার ৩২৮ পয়েন্টে। আর মঙ্গলবার দিনশেষে ডিএসই ব্রড ইনডেক্স আগের দিনের চেয়ে ২০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৫ হাজার ২৮৪ পয়েন্টে। আর ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১ হাজার ৩০ পয়েন্টে এবং ডিএসই–৩০ সূচক ২০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ২ হাজার ২১ পয়েন্টে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শ্রমিক বিক্ষোভ ও শিল্পাঞ্চলে অস্থিরতার পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে দেশের শেয়ারবাজারে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় শেয়ারবাজারে বড় ধরনের দরপতন হয়েছে। অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে। একই সঙ্গে বাজারে বিক্রির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
কয়েকদিন ধরে শ্রমিক অসন্তোষ ও বিক্ষোভ চলছে। ভাঙচুর, জ্বালাও-পোড়াওয়ের ঘটনা ঘটেছে। অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একধরনের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে অনেকেই শেয়ার বিক্রির চাপ বাড়িয়েছেন। বিক্রির চাপ বাড়ায় বাজারে বড় দরপতন হয়েছে।
তাদের মতে, শেয়ারবাজার মূলত বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও প্রত্যাশার ওপর নির্ভরশীল। কোনো খাতে অস্থিরতা তৈরি হলে তার প্রভাব দ্রুত পুঁজিবাজারে ছড়িয়ে পড়ে। শ্রমিক বিক্ষোভের কারণে শিল্পোৎপাদন ব্যাহত হওয়া, রপ্তানি কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং ব্যবসায়িক ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা বিনিয়োগকারীদের সতর্ক অবস্থানে ঠেলে দিয়েছে।
মঙ্গলবার দিনভর লেনদেন হওয়া ৩৮৬ কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ৬৮টির, দর কমেছে ২৬৭টির এবং দর অপরিবর্তিত রয়েছে ৫১টির। ডিএসইতে ৫৬৫ কোটি ৮২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবস থেকে ১৪৭ কোটি ৬০ লাখ টাকা বেশি। এর আগের দিন লেনদেন হয়েছিল ৪১৮ কোটি ২২ লাখ টাকার।
অপরদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১৭৪ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১৪ হাজার ২১৪ পয়েন্টে। সিএসইতে ১৮১টি প্রতিষ্ঠান লেনদেনে অংশ নিয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৫টির দর বেড়েছে, কমেছে ১১২টির এবং ২৪টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইতে ১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
ডিএসইতে লেনদেনের শীর্ষে উঠে এসেছে এনভয় টেক্সটাইলস লিমিটেড। কোম্পানিটির ৩২ কোটি ১১ লাখ ৬১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা মতিন স্পিনিংয়ের ২৮ কোটি ৭১ লাখ ৭৭ হাজার টাকা। ১৫ কোটি ৮৬ লাখ ৬১ হাজার টাকার শেয়ার লেনদেন নিয়ে শীর্ষ তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে প্যারামাউন্ট টেক্সটাইল পিএলসি।
লেনদেনের শীর্ষ তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে রয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক, শাহজীবাজার পাওয়ার, সিটি ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, মালেক স্পিনিং মিলস পিএলসি এবং সায়হাম টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।
দর পতনের শীর্ষে উঠে সিএপিএম আইবিবিএল ইসলামিক মিউচুয়াল ফান্ড। জানা গেছে, ফান্ডটির ইউনিট দর আগের দিনের চেয়ে ৯ দশমিক ৪৫ শতাংশ কমেছে। ফান্ডটি ৭৩৬ বারে ২১ লাখ ৮০ হাজার ৬৬৬টি ইউনিট লেনদেন করে। যার বাজার মূল্য ৩ কোটি টাকা। তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সায়হাম টেক্সটাইলের শেয়ার দর আগের দিনের চেয়ে ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ কমেছে। কোম্পানিটি ২ হাজার ৮৮ বারে ২০ লাখ ৯৬ হাজার ৮০৯টি শেয়ার লেনদেন করে। যার বাজার মূল্য ৮ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা রিলায়েন্স ইন্স্যুরেন্সের শেয়ার দর আগের দিনের চেয়ে ৬ দশমিক ৪৩ শতাংশ কমেছে। কোম্পানিটি ১ হাজার ৬৯২ বারে ৪ লাখ ৬২ হাজার ৭৯টি শেয়ার লেনদেন করে। যার বাজার মূল্য ৪ কোটি ৩ লাখ টাকা।
তালিকায় থাকা অন্যান্য কোম্পানির মধ্যে তুংহাই নিটিংয়ের ৬.২৫ শতাংশ, বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সে ৬.২৩ শতাংশ, বাংলাদেশ স্টিল রি-রোলিং মিলসের ৬.০৬ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ের ৫.৫৬ শতাংশ, এক্সিম ব্যাংক ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৫.৪৫ শতাংশ, এমবিএল ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ডের ৫.৪৩ শতাংশ ও আগ্রণী ইন্স্যুরেন্সের ৫.২৩ শতাংশ দর কমেছে।



