তদন্তের নির্দেশ
তিন কোম্পানির সন্দেহজনক লেনদেন
- বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স
- নাহি অ্যালুমিনিয়াম
- আল-মদিনা ফার্মা

শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত তিন কোম্পানির শেয়ারের দাম ও লেনদেন অস্বাভাবিক বাড়ার কারণ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। কোম্পানি তিনটি হলো— বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেল পিএলসি এবং আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যাল লিমিটেড।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে, সম্প্রতি কোম্পানিগুলোর শেয়ারের মূল্য ও লেনদেনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন ঘটেছে। এর পেছনে কোনো মূল্য সংবেদনশীল তথ্য (পিএসআই) বা ব্যবসায়িক অগ্রগতির ঘোষণা নেই, যা সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। এ কারণে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জকে (ডিএসই) শেয়ার তিনটির অস্বাভাবিক আচরণ বিস্তারিত তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে সংস্থাটির সার্ভিলেন্স বিভাগ কোম্পানিগুলোর লেনদেন রেখেছে নজরদারিতে।
জানতে চাইলে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, কোম্পানি তিনটির শেয়ারের দামে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং লেনদেনে অস্বাভাবিকতা লক্ষ করা গেছে। এ কারণে ডিএসইকে কোম্পানিগুলোর দাম ও লেনদেন বাড়ার কারণ তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, তদন্তে সংশ্লিষ্ট বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কোনো সমন্বিত কারসাজিমূলক বা অস্বাভাবিক লেনদেন হয়েছে কি না, অপ্রকাশিত মূল্য সংবেদনশীল তথ্য ব্যবহার করে ইনসাইডার ট্রেডিং সংঘটিত হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট স্টক ব্রোকার, স্টক ডিলার ও তাদের অনুমোদিত প্রতিনিধিরা মার্জিন রুলস ও কমিশনের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেছেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এ ছাড়া সন্দেহজনক লেনদেন সংঘটিত হওয়া বা প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মধ্যস্থতাকারীদের কোনো ভূমিকা বা দায় রয়েছে কি না এবং সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘনসহ অন্য কোনো অনিয়ম রয়েছে কি না, তাও তদন্তের আওতায় থাকবে। কমিশন ডিএসইকে চিঠি জারির তারিখ থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্রোকারেজ হাউজগুলোর অনুমোদিত প্রতিনিধি (এআর), কমপ্লায়েন্স কর্মকর্তা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসইসির মতে, এ ধরনের সন্দেহজনক লেনদেন সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (স্টক-ডিলার, স্টক-ব্রোকার ও অনুমোদিত প্রতিনিধি) বিধিমালা, ২০০০-এর দ্বিতীয় তফসিলের আচরণবিধি ৬ ও ৮ এবং বিধি ১১-এর সম্ভাব্য লঙ্ঘন।
তথ্য বলছে, তিন মাস ধরেই বাংলাদেশ ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্সের শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। গত ২৪ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ৫৩ দশমিক ৮০ টাকায়। আর ৯ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ১১৬ দশমিক ১০ টাকায়। এ সময়ে শেয়ারটির দাম বেড়েছে ৬২ দশমিক ৩০ টাকা বা ১১৫ দশমিক ৮০ শতাংশ। একইভাবে তিন মাস ধরেই আল-মদিনা ফার্মাসিউটিক্যালেরও শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। গত ৩১ মার্চ কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ৩৮ দশমিক ১০ টাকা। আর ১০ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৫ দশমিক ৮০ টাকা। এ সময়ে শেয়ারটির দাম ৪ দশমিক ৭০ টাকা বা ১২৫ দশমিক ২০ শতাংশ বেড়েছে।
এ ছাড়া গত দুই মাসে নাহি অ্যালুমিনিয়াম কম্পোজিট প্যানেলের শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। গত ৬ এপ্রিল কোম্পানিটির শেয়ারের দাম ছিল ২০ টাকা। আর ৭ জুন তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ দশমিক ১০ টাকায়। দুই মাসের ব্যবধানে শেয়ারটির দাম ২১ দশমিক ১০ টাকা বা ১০৫ দশমিক ৫০ শতাংশ বেড়েছে। তবে গত কয়েক কার্যদিবসে কোম্পানিগুরোর শেয়ারের দর কিছুটা সংশোধন হয়েছে।




