এলডিসি উত্তরণ
তিন বছরই সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ
- নির্ধারিত সময় ধরে এগোচ্ছি— সচিব, ইআরডি

ফাইল ছবি
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বের হতে আরও তিন বছর প্রস্তুতি নেওয়া সময় পাচ্ছে বাংলাদেশ। সম্প্রতি জাতিসংঘের ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল (ইকোসক) তেমনই সুপারিশ দিয়েছে সাধারণ পরিষদে উপস্থাপনের জন্য। এর মধ্যদিকে দুই বছর না এক বছর এ রকম শঙ্কা কিছুটা অবসান হয়েছে। চূড়ান্ত বিচারে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ তিন বছর পেছানোর সিদ্ধান্ত দিতে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সম্প্রতি জাতিসংঘে অনুষ্ঠিত এলডিসি-সংক্রান্ত বিভিন্ন বৈঠকে অংশে নিয়ে দেশে ফিরেছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী। সময় বৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে আগামীর সময়কে তিনি বলেছেন, ‘আমরা তো তিন বছরই চেয়েছি। আশা করছি, এটিই পাওয়া যাবে। অপেক্ষায় আছি। এখন দেখা যাক, কী হয়। তবে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় তিন বছর ধরেই আমরা এগিয়ে যাচ্ছি।’
সূত্র জানায়, ২১ জুলাই নিউ ইয়র্কে অনুষ্ঠিত হয় ইকোসকের বৈঠক। এতে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সম্মতিতে বাংলাদেশের জন্য তিন বছর সময় বাড়ানোর সুপারিশ করে সংস্থাটি। এর আগে ইকোসকের সদস্য দেশগুলোর সমর্থন পেতে ব্যাপক কূটনৈতিক তৎপরতা চালায় বাংলাদেশ। এর অংশ হিসেবে ১৪ থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল নিউ ইয়র্কে অবস্থান করে। বিভিন্ন পর্যায়ের বৈঠকে অংশ নেওয়ার পাশাপাশি তারা ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ এলডিসি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে বৈঠক করে। এরও আগে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সদস্যদেশগুলোয় কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হয়। এসব কার্যক্রমের ফল পাওয়া যায় ইকোসকের বৈঠকে।
ইআরডির দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘সাধারণত ইকোসক যে সুপারিশ দেয়, সেটি নিয়ে দ্বিমত করে না জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। এজন্য এলডিসি উত্তরণ পেছানোর ক্ষেত্রে ইকোসকের সুপারিশই এক ধরনের চূড়ান্ত বলে ধরে নেওয়া যায়। কিন্তু ফরমালিটিজ হিসেবে সর্বোচ্চ ফোরাম জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে হিসেবে ধরে নিতে পারি, এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতি নিতে আমরা তিন বছরই সময় পাচ্ছি।’
ইআরডি সূূত্র জানায়, ইকোসকের যেসব দেশ বাংলাদেশের তিন বছর সময় চাওয়ার পক্ষে সম্মতি দিয়েছে সেগুলো হলো— আলজেরিয়া, আর্মেনিয়া, অস্ট্রেলিয়া, অস্ট্রিয়া, আজারবাইজান, বুরুন্ডি, কানাডা, শাদ, আইভরি কোস্ট, কেনিয়া, মৌরিতানিয়া, মোজাম্বিক, নাইজেরিয়া, সেনেগাল, সিয়েরালিওন, দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া ও জাম্বিয়া। এ ছাড়া চীন, ভারত, জাপান, লেবানন, নেপাল, পাকিস্তান, সৌদি আরব, শ্রীলঙ্কা, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান। আরও আছে রাশিয়া, ইউক্রেন, রাশিয়ান ফেডারেশন, প্যারাগুয়ে, পেরু, উরুগুয়ে, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ইউকে ও ইউএসএ।
জানা যায়, বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নিয়ে এলডিসি উত্তরণের সময়সীমা ২০২৬-এর পরিবর্তে ২০২৯ সালে নির্ধারণের আবেদন করেছে। আবেদনে এলডিসি-পরবর্তী বাণিজ্য সুবিধা নিয়ে বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে রয়েছে দেশের আর্থিক খাতে অনিয়ম, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন এখনো নিষ্পত্তি না হওয়া ইত্যাদি। এ ছাড়া বৈশ্বিক সংকটের মধ্যে কোভিড-১৯ মহামারীর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের ধীরগতি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ ও এর প্রভাবে জ্বালানি এবং খাদ্যবাজারে অস্থিরতা, বৈশ্বিক আর্থিক ব্যবস্থার কড়াকড়ি, বাণিজ্য পুনরুদ্ধারে দেরি, মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় বাড়তে থাকা অনিশ্চয়তার কথা তুলে ধরা হয়।




