জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের নিবন্ধন যোগ্যতা তদন্তে বিএসইসি
- ৫ বছরের আর্থিক হিসাব ও মার্জিন ঋণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে

জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও বিএসইসির লোগো
শেয়ারবাজারের সদস্যভুক্ত মার্চেন্ট ব্যাংক জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সার্বিক কার্যক্রমসহ নিবন্ধনের যোগ্যতা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা, গ্রাহকের হিসাব, মার্জিন ঋণ, নিট সম্পদ খতিয়ে দেখতে দুই সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।
শেয়ারবাজার ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষার্থে জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) পিএলসির সহযোগী প্রতিষ্ঠান জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের কার্যক্রমের বিভিন্ন দিক যাচাই করতে এ অনুসন্ধান কার্যক্রম পরিচালনা করবে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। আগামী ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন কমিশনে দাখিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি বিএসইসির মার্কেট ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ জারি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা হলেন- বিএসইসির উপপরিচালক মো. শাহনওয়াজ এবং সহকারী পরিচালক নুজহাত খাদিজা মিম।
এ বিষয়ে বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম আগামীর সময়কে বলেছেন, জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কমিশনের পক্ষ থেকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, আর্থিক হিসাব, গ্রাহক হিসাব, মার্জিন ঋণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কোনো ধরনের অনিয়ম, অসঙ্গতি বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদেশে বলা হয়েছে, জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট প্রতিষ্ঠার পর থেকে মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, সেগুলো সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা ও নিবন্ধন সনদের শর্ত অনুযায়ী হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। প্রতিষ্ঠানটির ইস্যু ব্যবস্থাপনা, পোর্টফোলিও ব্যবস্থাপনা, আন্ডাররাইটিং এবং নিজস্ব বিনিয়োগসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যালোচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে নিবন্ধন সনদের শর্তাবলী, ফরম ‘খ’ এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্চেন্ট ব্যাংকার ও পোর্টফোলিও ম্যানেজার) বিধিমালা, ১৯৯৬-এর সংশ্লিষ্ট বিধান বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ছাড়া গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটির মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে নিবন্ধনের অযোগ্য কোনো অবস্থায় ছিল কি না, সেটিও পরীক্ষা করা হবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট বিধিমালার নিবন্ধনের যোগ্যতা ও অযোগ্যতার শর্তগুলো পর্যালোচনা করা হবে।
এদিকে প্রতিষ্ঠানটির গ্রাহক সংক্রান্ত নথিপত্রও তদন্তের আওতায় থাকবে। নির্ধারিত সময়ের গ্রাহকের হিসাব, চুক্তিপত্র ও হিসাব বিবরণী যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও গ্রাহকদের সরবরাহ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা হবে। একই সঙ্গে গ্রাহকদের দেওয়া মার্জিন ঋণও পরীক্ষা করবে অনুসন্ধান দল। এসব ঋণ সংশ্লিষ্ট বিধিমালায় নির্ধারিত শর্ত ও নির্দেশনা মেনে দেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। এদিকে প্রতিষ্ঠানটির গত পাঁচ বছরের আর্থিক অবস্থাও বিশদভাবে পর্যালোচনা করা হবে। এ সময়ের নিরীক্ষিত ও অনিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী, হিসাবের বই, সহায়ক দলিল এবং অন্যান্য আর্থিক তথ্য পরীক্ষা করা হবে। প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষণ ও আর্থিক বিবরণী সংশ্লিষ্ট আইন, বিধিমালা এবং ঝুঁকিভিত্তিক মূলধন পর্যাপ্ততা-সংক্রান্ত বিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, তা-ও যাচাই করা হবে।
বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে প্রতিষ্ঠানটির নিট সম্পদের অবস্থার ওপর। গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত নিট সম্পদ কত ছিল এবং এতে কোনো অবনতি বা ঘাটতি হয়েছে কি না, তা নির্ধারণ করবে অনুসন্ধান দল। কোনো ঘাটতি পাওয়া গেলে তার কারণও খুঁজে দেখা হবে। নিট সম্পদের ঘাটতির ক্ষেত্রে অবাস্তবায়িত লোকসানের বিপরীতে সংরক্ষণ, বিনিয়োগের মূল্যহ্রাস, ঋণাত্মক মালিকানা স্বত্ব কিংবা অন্য কোনো আর্থিক সমন্বয়ের প্রভাব রয়েছে কি না, তাও পরীক্ষা করা হবে। এসব কারণে প্রতিষ্ঠানটির সামগ্রিক আর্থিক অবস্থার ওপর কী ধরনের প্রভাব পড়েছে, সেটিও তদন্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।
এদিকে জিএসপি ইনভেস্টমেন্টের মার্চেন্ট ব্যাংকের আচরণবিধি যথাযথভাবে মেনে চলেছে কি না, সেটিও যাচাই করবে বিএসইসি। অনুসন্ধানে কোনো ধরনের লঙ্ঘন বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট বিধানের আলোকে প্রতিষ্ঠানটির মার্চেন্ট ব্যাংক হিসেবে নিবন্ধন সনদ বহাল রাখা বা নবায়নের বিষয়ে কমিশনের কাছে সুপারিশ করা হবে।
অনুসন্ধান চলাকালে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, লেনদেন, নথিপত্র কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে আরও যাচাইয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে সেসব বিষয়ও অনুসন্ধানের আওতায় আনা যাবে বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে পুঁজিবাজার-সংক্রান্ত আইন যথাযথভাবে প্রতিপালিত হয়েছে কি না এবং বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষিত হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে চায় কমিশন।
এমন পরিস্থিতিতে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯ এর ধারা ২১ এবং বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন আইন, ১৯৯৩ এর ধারা ১৭ক অনুযায়ী প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সার্বিক বিষয়গুলোর ওপর তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। এ লক্ষ্যে দুইজন কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আদেশ জারির তারিখ থেকে ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত শেষ করে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন।





