ছোট গ্যারেজ থেকে ৩৪৪ লাখ কোটি টাকায় আমাজন

সংগৃহীত ছবি
বাড়ির গ্যারেজে শুরু করে এখন বিশ্বের অন্যতম বড় কোম্পানি— এটি আমাজনের উত্থানের গল্প। ১৯৯৪ সালে জেফ বেজোসের হাত ধরে যাত্রা শুরু করা প্রতিষ্ঠানটি পরের বছর অনলাইনে বই বিক্রি শুরু করে। সেই উদ্যোগ তিন দশকে পেরিয়েছে ই-কমার্সের সীমানা; তৈরি করেছে ক্লাউড কম্পিউটিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল সেবার বিশাল সাম্রাজ্য।
শুরুতে ‘ক্যাডাব্রা’ নাম ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলেও পরে বিশ্বের বৃহত্তম নদী আমাজনের নাম অনুসারে নাম রাখা হয়। ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে সাইটটি চালুর পর বিক্রি হওয়া প্রথম বইগুলোর একটি ছিল ডগলাস হফস্ট্যাডটারের চিন্তার মৌলিক প্রক্রিয়ার কম্পিউটার মডেল।
বই দিয়ে শুরু হলেও লক্ষ্য ছিল ধীরে ধীরে আরও বিস্তৃত পণ্য ও সেবা দেওয়া। সেই পথের বড় মাইলফলক আসে ১৯৯৭ সালের ১৫ মে। ওই দিন আমাজন নাসডাকে তালিকাভুক্ত হয়। প্রাথমিক গণপ্রস্তাবে শেয়ারপ্রতি দাম ছিল ১৮ ডলার। পরবর্তী শেয়ার বিভাজন সমন্বয় করলে ২০২২ সালের ২০-ভাগে-১ ভাগ শেয়ার বিভাজনের আগে ওই প্রাথমিক গণপ্রস্তাবের মূল্য ১ দশমিক ৫০ ডলারে দাঁড়িয়েছিল। যার ২৩ আগস্ট নাসডাকে বাজারদর দাঁড়ায় ২৫৮ দশমিক ৬৩ মার্কিন ডলার।
অন্যদিকে আমাজনের সব সিকিউরিটিজের দাম বা বাজারমূল্য প্রায় ২ দশমিক ৮২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৪৪ লাখ কোটি টাকার সমান। অথচ বাংলাদেশের পুরো শেয়ারবাজারের বাজার মূলধন ৭ লাখ কোটি টাকা। এ বিবেচনায় বাংলাদেশের পুরো শেয়ারবাজার এক আমাজনের আকারের মাত্র ২ শতাংশ। বাংলাদেশের শেয়ারবাজারের পিছিয়ে থাকার বিভিন্ন কারণ বিশ্বব্যাংকের বিভিন্ন মূল্যায়নেও উঠে এসেছে।
আমাজনের আর্থিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মোট আয় হয়েছে ৮৭ লাখ ৪৬ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। এই আয়ের মধ্য দিয়ে আমাজন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি টার্নওভার করা কোম্পানিতে পরিণত হয়েছে। ১২ বছর ধরে শীর্ষে থাকা ওয়ালমার্টকে পেছনে ফেলেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে পণ্য বিক্রি থেকে ৩৬ লাখ ১৪ হাজার ৪৪৫ কোটি টাকা ও সেবা প্রদান থেকে ৫১ লাখ ৩২ হাজার ২৮ কোটি টাকা এসেছে।
এই আয় করতে কোম্পানিটির বিক্রয়জনিত পণ্য উৎপাদনে প্রত্যক্ষ ব্যয় হয়েছে ৪৩ লাখ ৪৮ হাজার ২৫১ কোটি টাকা। এ ছাড়া উল্লেখযোগ্য ব্যয়ের মধ্যে ১৩ লাখ ৩০ হাজার ৭০৩ কোটি টাকার সরবরাহ ব্যয় ও ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৯৫৬ কোটি টাকার প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত ব্যয় হয়েছে।
এর সঙ্গে বাজারজাতকরণ, বেতনাদি, অন্যান্য পরিচালনসহ মোট পরিচালন ব্যয় হয় ৭৭ লাখ ৭০ হাজার ৭৭৮ কোটি টাকা, যা বাদ দিয়ে আমাজনের ২০২৫ সালে পরিচালন আয় দাঁড়ায় ৯ লাখ ৭৫ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা।
ওই বছরে প্রতিষ্ঠানটির মূল ব্যবসার বাইরে আরও ২ লাখ ১১ হাজার ৪৯৯ কোটি টাকার অপরিচালন আয় হয়। ফলে কোম্পানিটির কর-পূর্ব আয় দাঁড়ায় ১১ লাখ ৮৭ হাজার ১৯৪ কোটি টাকায়, যা কর-পরবর্তী নিট মুনাফা নেমে আসে ৯ লাখ ৪৭ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকায়।
২০২৫ সালের শেষে ১৭ লাখ ৮ হাজার ২৯৩ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধনের আমাজনে নিট সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫০ লাখ ১৪ হাজার ৯৯৩ কোটি টাকা। এ কোম্পানিটির কাছে ২০২৫ সালের ব্যবসা শেষে নগদ অর্থের পরিমাণ ছিল ১০ লাখ ৫৯ হাজার ৮২ কোটি টাকা।







