পোশাক শিল্পে কার্বন নিঃসরণ হ্রাস
সিপিডির গবেষণায় প্রযুক্তি সংস্কার ও জলবায়ু অর্থায়নের তাগিদ

রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে অনুষ্ঠিত সেমিনার
বাংলাদেশের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থার অন্যতম চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাত। তবে গ্রিনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ ও কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানো এখন এ খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে পোশাক কারখানায় দ্রুত সবুজ প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ দিয়েছে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
আজ রবিবার রাজধানীর ব্র্যাক সেন্টারে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডিকার্বোনাইজেশন ইন দ্য আরএমজি সেক্টর: হাউ টু টেক ইট ফরওয়ার্ড?’ শীর্ষক সেমিনারে সিপিডির একটি বিশ্লেষণমূলক গবেষণা প্রতিবেদন উত্থাপন করা হয়।
এতে বলা হয়েছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের আসন্ন কার্বন বর্ডার অ্যাডজাস্টমেন্ট মেকানিজম (সিবিএএম) এবং বৈশ্বিক ব্র্যান্ডগুলোর ডিকার্বোনাইজেশন লক্ষ্যমাত্রার কারণে বাংলাদেশি পোশাক উৎপাদকদের স্বল্প-কার্বনভিত্তিক উৎপাদনে যেতে হবে।
গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম। তিনি পোশাক খাতে কার্বন নিঃসরণ কমানোর সুযোগ, বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ এবং প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কারের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
গবেষণায় বলা হয়েছে, তৈরি পোশাক শিল্পের বিভিন্ন ধাপে কার্বন নিঃসরণের প্রধান উৎস রয়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল ডাইং, উইভিং, ওয়াশিং ও ফিনিশিংয়ের মতো প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ তাপ ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের কারণে বেশি কার্বন নিঃসরণ হয়।
এ ছাড়া পুরনো বয়লার, প্রাকৃতিক গ্যাসচালিত জেনারেটর এবং বিদেশ থেকে তুলা ও রাসায়নিক কাঁচামাল পরিবহনের কারণেও কার্বন ফুটপ্রিন্ট বাড়ছে।
তবে কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এরই মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। পরিবেশবান্ধব বা লিড সার্টিফায়েড গ্রিন ফ্যাক্টরির সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে।
কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতের প্যানেল স্থাপন, পোশাকের ঝুট ও উচ্ছিষ্ট পুনঃপ্রক্রিয়াজাত করে নতুন সুতা তৈরি এবং পানি সাশ্রয়ী স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির ব্যবহার এ খাতের সবুজ রূপান্তরকে এগিয়ে নিচ্ছে।
সিপিডির গবেষণায় বলা হয়েছে, এ রূপান্তর টেকসই করতে নীতিগত ও প্রযুক্তিগত সংস্কার প্রয়োজন। বিশেষ করে ছোট ও মাঝারি কারখানাগুলোকে সহজ শর্তে সবুজ অর্থায়নের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক জলবায়ু তহবিল থেকে অর্থায়ন পাওয়ার উদ্যোগ জোরদার করা প্রয়োজন।
গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কারখানায় প্রতিদিনের কার্বন নিঃসরণ পরিমাপ ও বিশ্লেষণের জন্য আধুনিক ডাটা ট্র্যাকিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। এর মাধ্যমে কারখানাগুলো নিজেদের কার্বন নিঃসরণের মাত্রা বুঝতে পারবে এবং তা কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারবে।







