বাংলাদেশ-জাপান অংশীদারত্ব
পাঁচ খাতে সহায়তায় সুফল আনতে পারে

একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন নির্ভর করে অর্থনৈতিক অগ্রগতি, মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা, পরিকল্পিত নগরায়ণ, পর্যটনশিল্পের বিকাশ এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সমন্বয়ের ওপর। এই প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর বাংলাদেশ ও জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার পাশাপাশি বিভিন্ন খাতে নতুন বিনিয়োগ, প্রযুক্তি বিনিময় ও উন্নয়ন সহযোগিতার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
জাপান পরিকল্পিত নগরায়ণ, আধুনিক অবকাঠামো, উন্নত চিকিৎসা প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব নির্মাণ এবং পর্যটন ব্যবস্থাপনায় গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশের জন্য এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে রিয়েল এস্টেট, আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, হোটেল ও পর্যটন এবং সামাজিক উন্নয়ন খাতে বাংলাদেশ-জাপান সহযোগিতা নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।
মাতৃভূমি গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত থেকে পরিকল্পিত আবাসন ও রিয়েল এস্টেট খাতের উন্নয়নে কাজ করছি। মাতৃভূমি সিটির মাধ্যমে আধুনিক নগরায়ণ, পরিকল্পিত আবাসন এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপযোগী বসবাসের পরিবেশ তৈরির সম্ভাবনাকে আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। একই সঙ্গে মাতৃভূমি গ্র্যান্ড রিসোর্ট অ্যান্ড হোটেলের মাধ্যমে পর্যটন, আতিথেয়তা ও অবকাশকেন্দ্রিক সেবার বিকাশে অবদান রাখার লক্ষ্য রয়েছে। এসব খাতে জাপানের আধুনিক নির্মাণপ্রযুক্তি, জ্বালানি-সাশ্রয়ী নকশা, পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা দক্ষতা কাজে লাগানো গেলে বাংলাদেশের উন্নয়ন আরও টেকসই হতে পারে।
পর্যটন ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ সম্প্রসারণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে মাতৃভূমি গ্র্যান্ড রিসোর্ট অ্যান্ড হোটেল। পর্যটন বিনিময়, ব্যবসায়িক ভ্রমণ, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং দুই দেশের মানুষের পারস্পরিক পরিচিতি বৃদ্ধির মাধ্যমে বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক আরও গভীর করা সম্ভব। এক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ, দক্ষ জনবল তৈরি এবং পর্যটনসেবার মানোন্নয়ন বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
অন্যদিকে, মাতৃভূমি হার্ট কেয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে সাশ্রয়ী মূল্যে উন্নত হৃদরোগ চিকিৎসাসেবা সম্প্রসারণে কাজ করছি। EECPসহ আধুনিক নন-সার্জিক্যাল চিকিৎসা পদ্ধতির মাধ্যমে উপযুক্ত রোগীদের জন্য কাটাছেঁড়া, রিং বসানো কিংবা বাইপাস সার্জারি ছাড়াই চিকিৎসার সুযোগ রয়েছে। হাজারো রোগীর চিকিৎসাসেবায় অবদান রাখার অভিজ্ঞতা আমাদের দেশে উন্নত চিকিৎসার সুযোগ সম্প্রসারণে আরও অনুপ্রাণিত করে।
আমার কাছে উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সামাজিক দায়বদ্ধতা। ইগনাইট গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান হিসেবে অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, যুব উন্নয়ন, দুর্যোগ সহনশীলতা এবং জীবিকায়ন নিয়ে কাজ করছি। সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের থেরাপি এবং তরুণদের সম্ভাবনা বিকাশের মাধ্যমে আমরা আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গঠনে অবদান রাখার চেষ্টা করছি। জাপানের অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা এসব উদ্যোগকে আরও বিস্তৃত করার সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।
আমি বিশ্বাস করি, বর্তমান সরকারের আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের উদ্যোগের সঙ্গে বেসরকারি খাত এবং উন্নয়ন সংস্থাগুলোর কার্যকর সমন্বয় ঘটলে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা আরও গতিশীল হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফর যদি স্বাস্থ্য, রিয়েল এস্টেট, পর্যটন, প্রযুক্তি ও সামাজিক উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার নতুন পথ তৈরি করে, তবে তার সুফল অর্থনীতি থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের জীবনমান পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
আমাদের লক্ষ্য শুধু ব্যবসার প্রসার নয়; বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি, মানসম্মত সেবা প্রদান, সামাজিক দায়বদ্ধতা পালন এবং একটি উন্নত বাংলাদেশ গঠনে অবদান রাখা। বাংলাদেশ ও জাপানের পারস্পরিক আস্থা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা ও যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে সেই লক্ষ্য বাস্তবায়িত হোক।
লেখক: ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মাতৃভূমি হার্ট কেয়ার



