সিবিই পদকপ্রাপ্ত ভেলরী টেইলরকে সংবর্ধনা জানালেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার

সংগৃহীত ছবি
বাংলাদেশে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সেবায় অনন্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সিবিই পদকপ্রাপ্ত ভেলরী টেইলরকে সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। সাভারে পক্ষাঘাতগ্রস্তদের পুনর্বাসন কেন্দ্র (সিআরপি)-এর প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এই বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক।
ব্রিটিশ রাজা তৃতীয় চার্লসের জন্মদিন উপলক্ষে ২০২৫ সালে সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ভেলরী টেইলরকে ‘কম্প্যান্ডার অব দ্য অর্ডার অব দ্য ব্রিটিশ এম্পায়ার’ (সিআরই/সিবিই) উপাধিতে ভূষিত করা হয়। এই অর্জন উপলক্ষে সিআরপি ও ব্রিটিশ হাইকমিশন যৌথভাবে সাভারের রেডওয়ে হলে এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন ট্রাস্ট ফর দি রিহ্যাবিলিটেশন অব দি প্যারালাইজড (টিআরপি)-এর ট্রাস্টি সদস্য মুস্তাক আহমেদ। এ সময় সিআরপিকে ঘিরে ভেলরী টেইলরের দীর্ঘ কর্মযাত্রার ওপর একটি প্রামাণ্য ভিডিও প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে সিআরপির প্রাক্তন রোগী মেজর কানিজ ও জোবেদা তাদের পুনর্বাসনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি ভেলরী টেইলরের বোন মেরী বিশপ এবং সিআরপির নির্বাহী পরিচালক ড. মোহাম্মদ সোহরাব হোসেন তাদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন।
অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ভেলরী টেইলর সিবিই উপাধি প্রাপ্তির জন্য সিআরপি ও এর সব স্টাফের অবদানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। পরে তিনি সিআরপির পক্ষ থেকে উইলিয়াম এন্ড মেরী টেইলর স্কুলের একজন শিক্ষার্থীর আঁকা ছবি ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের হাতে তুলে দেন।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক তার বক্তব্যে ভেলরী টেইলরের মানবিক সেবার ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে তার কাজের আন্তর্জাতিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, ভেলরীর নিজস্ব ইচ্ছাতেই এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের আয়োজন সিআরপিতে করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে টিআরপির চেয়ারম্যান মুহাম্মদ সাইদুর রহমান সমাপনী বক্তব্য প্রদান করেন। এর আগে সিআরপির একীভূত বিদ্যালয় উইলিয়াম এন্ড মেরী টেইলর স্কুলের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় একটি মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।
উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের একটি মিশনারি হাসপাতালে ফিজিওথেরাপিস্ট হিসেবে কাজ শুরু করার মাধ্যমে ভেলরী টেইলরের বাংলাদেশে পথচলা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে তিনি সিআরপি প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে ১৩টি কেন্দ্রের মাধ্যমে দেশের পক্ষাঘাতগ্রস্ত ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে দেশের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠানে রূপ নিয়েছে।



