৪০০ কোটি টাকার ফান্ড অব ফান্ডসের কার্যক্রম শুরু

দেশের স্টার্টআপ খাতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে ৪০০ কোটি টাকার ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’-এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সরকারের উদ্যোগে গঠিত এ তহবিলের মাধ্যমে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডে বিনিয়োগের পাশাপাশি বেসরকারি ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ আকর্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ্য ফান্ড ব্যবস্থাপকদের কাছ থেকে আগ্রহপত্র (REOI) আহ্বানের মধ্য দিয়ে তহবিলটির কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন সরকারের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ফান্ড ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড এ উদ্যোগ নিয়েছে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। সভাপতিত্ব করেন তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব এবং স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের চেয়ারম্যান মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা।
অনুষ্ঠানে ফকির মাহবুব আনাম বলেন, বাংলাদেশে মেধাবী উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবনী ধারণার অভাব নেই। অর্থের অভাবে যাতে কোনো সম্ভাবনাময় উদ্যোগ থেমে না যায়, সে জন্য সরকার বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করতে চায়।
মন্ত্রী বললেন, ‘বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস’ দেশের স্টার্টআপ খাতে বড় পরিবর্তন আনার একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তারা প্রয়োজনীয় পুঁজি, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। উদ্ভাবননির্ভর প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, শুধু সরকারি অর্থায়নের ওপর নির্ভর না করে বেসরকারি খাতকেও স্টার্টআপে বিনিয়োগে এগিয়ে আসতে হবে। ফান্ড অব ফান্ডসের মাধ্যমে দেশে বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক মূলধনের প্রবাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বাংলাদেশের স্টার্টআপগুলোর আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করা হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও স্টার্টআপ খাত বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে বহুমুখী করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু অর্থায়ন নয়, স্টার্টআপগুলোর জন্য পরামর্শ, দক্ষতা উন্নয়ন, বাজারসংযোগ ও প্রযুক্তিগত সহায়তাও প্রয়োজন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভালো উদ্যোক্তা ও উদ্যোগের অভাব নেই। তাই বিনিয়োগের পাশাপাশি উদ্যোক্তাদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার দিকে নজর দিতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে মো. মামুনুর রশীদ ভূঁঞা বলেন, সরকার এমন একটি পরিবেশ তৈরি করতে চায়, যেখানে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও উদ্ভাবন স্বাভাবিকভাবে বিকশিত হতে পারে। বাংলাদেশ ফান্ড অব ফান্ডস সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে স্টার্টআপে বিনিয়োগ বাড়ার পাশাপাশি দেশের ভবিষ্যৎ অর্থনীতির জন্য একটি শক্তিশালী বিনিয়োগ অবকাঠামো গড়ে উঠবে।
অনুষ্ঠানে স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল হাই ফান্ডটির কাঠামো, বিনিয়োগ কৌশল, ফান্ড ব্যবস্থাপক নির্বাচন ও যৌথ বিনিয়োগ ব্যবস্থা তুলে ধরেন। তিনি জানান, শক্তিশালী সুশাসন, পেশাদার ব্যবস্থাপনা ও গ্রহণযোগ্য বিনিয়োগ কৌশলসম্পন্ন দেশি-বিদেশি ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফান্ডে বিনিয়োগ করা হবে।
স্টার্টআপ বাংলাদেশ জানিয়েছে, গত এক দশকে দেশের স্টার্টআপগুলো প্রায় ১ দশমিক ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ পেয়েছে। এর মধ্যে স্থানীয় বিনিয়োগকারীদের অংশ ছিল প্রায় ৭ শতাংশ। নতুন তহবিলের মাধ্যমে স্থানীয় প্রাতিষ্ঠানিক মূলধন বাড়ানো, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং দেশে ভেঞ্চার ক্যাপিটাল খাতের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সরকারের ২০২৬ সালের নির্বাচনী ইশতেহারে স্টার্টআপ ও উদ্যোক্তা উন্নয়নকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্টার্টআপ উন্নয়ন খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছে সরকার। তরুণ উদ্যোক্তা ও প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপের জন্য কর ও ভ্যাট–সংক্রান্ত বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।
স্টার্টআপ বাংলাদেশ লিমিটেড তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের আওতাধীন সরকারের ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ও ফান্ড ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান। প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবনী স্টার্টআপে বিনিয়োগের পাশাপাশি উদ্যোক্তা উন্নয়ন, উদ্ভাবন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করছে।






