পাবিপ্রবিতে দুই দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘ইফাস্ট’ শুরু

সংগৃহীত ছবি
পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আজ শনিবার দুই দিনব্যাপী ‘ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন ইমার্জিং ফ্রন্টিয়ার্স ইন অ্যাডভান্সড সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিস (ইফাস্ট)-২০২৬’ শুরু হয়েছে।
হাইব্রিড পদ্ধতিতে আয়োজিত এ দুই দিনব্যাপী সম্মেলনে বাংলাদেশসহ ১৩টি দেশের গবেষক, বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবী, তরুণ গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করছেন। ৩৯টি সেশনে ৩০৮টি গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে। পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান এবং জীব ও ভূবিজ্ঞান অনুষদ এবং মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মালয়েশিয়া পারলিস (ইউনিম্যাপ) যৌথভাবে সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
সম্মেলনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম। পৃষ্ঠপোষক হিসেবে রয়েছেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম। সম্মেলনের জেনারেল চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত রয়েছেন জাপানের ওসাকা মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. নারুহিকো আইজাওয়া, মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটির ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের প্রধান অধ্যাপক ড. সাইদুর রহমান, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এমিরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে এম আজহারুল ইসলাম এবং সানওয়ে ইউনিভার্সিটির জেফরি স্যাকস সেন্টার ফর সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্টের প্রধান অধ্যাপক ড. চেন জিট আর্ন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সম্মেলনের আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মো. ফজলুল হক। আয়োজক কমিটির সচিব ছিলেন অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান।
উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবুল হাসনাত মোহা. শামীম বললেন, ‘আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়ে মাত্র এক মাস আগে যোগদান করেছি। এরই মধ্যে এমন কিছু দেখার সুযোগ পেয়েছি, যা আমাকে দারুণভাবে আশাবাদী করে তুলেছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে পরপর দুটি আন্তর্জাতিক সম্মেলন সফলভাবে আয়োজন করা হয়েছে। এটি আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রমবর্ধমান গবেষণা সংস্কৃতি, প্রাতিষ্ঠানিক গতিশীলতা এবং বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।’
আমরা এমন এক যুগে বাস করছি, যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মানবসভ্যতার প্রতিটি দিককে বদলে দিচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কোয়ান্টাম প্রযুক্তি, জৈবপ্রযুক্তি, উন্নত উপকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, সাইবার নিরাপত্তা, জলবায়ুবিজ্ঞান এবং ডেটা অ্যানালিটিক্স এখন আর সুদূরপ্রসারী সম্ভাবনা নয়; এগুলো আমাদের বর্তমানকে রূপ দিচ্ছে এবং ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করছে।
উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নজরুল ইসলাম বললেন, ‘এই আন্তর্জাতিক সম্মেলনের মাধ্যমে উদ্ভাবন, জ্বালানি নিরাপত্তা, ভাবনার আদান-প্রদান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ন্যানোপ্রযুক্তি প্রভৃতি বিষয়ে গবেষণাগুলো সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে।’
কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. শামীম আহসান জানালেন, এ ধরনের সম্মেলনের মাধ্যমে গবেষকেরা একে অপরের সঙ্গে জ্ঞান ভাগাভাগি ও জ্ঞান বিনিময় আরও সহজে করতে পারবেন। এসব ধারণা আমাদের জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখবে।
এমিরিটাস অধ্যাপক ড. এ কে এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘এই সম্মেলন পাবিপ্রবিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে উন্নীত করতে আরও ত্বরান্বিত করবে এবং গবেষকদের জ্ঞানকে আরও সমৃদ্ধ করবে।’
উপাচার্য আরও বলেছেন, ‘এই সম্মেলনটি কেবল একটি একাডেমিক আয়োজন নয়। এটি এমন একটি মঞ্চ, যেখানে ধারণাগুলো উদ্ভাবনে রূপ নিতে পারে, উদ্ভাবন বাস্তব সমাধানে পরিণত হতে পারে এবং সেই সমাধান একটি উন্নত বিশ্ব গঠনে অবদান রাখতে পারে।’
বাংলাদেশ আজ উন্নয়নের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে দাঁড়িয়ে আছে। দেশটি একটি জ্ঞানভিত্তিক ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতির দিকে অবিচলভাবে এগিয়ে চলেছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা শুধু অবকাঠামো ও শিল্পের ওপর নয়, বরং দেশের বৈজ্ঞানিক পরিমণ্ডলের শক্তির ওপরও নির্ভর করবে।’
সম্মেলনের মূল উদ্দেশ্য উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির বিভিন্ন শাখায় সাম্প্রতিক গবেষণা, উদ্ভাবনের প্রবণতা, চ্যালেঞ্জ এবং বাস্তবভিত্তিক সমাধান নিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে জ্ঞান বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি করা। সম্মেলনটি বাংলাদেশের গবেষক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক গবেষণা নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পাশাপাশি দেশের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে বৈশ্বিক অঙ্গনে আরও সুদৃঢ়ভাবে উপস্থাপনের সুযোগ তৈরি করবে।




