ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএস এখন বিকাশ অ্যাপে

সংগৃহীত ছবি
বিকাশ অ্যাপের ডিজিটাল সেভিংস সেবায় যুক্ত হয়েছে ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির মাসিক ডিপিএস। ফলে বিকাশ ব্যবহারকারীরা এখন ঘরে বসেই ইস্টার্ন ব্যাংকে ৬ মাস থেকে ৪ বছর মেয়াদের ডিপিএস খুলতে পারবেন।
বিকাশ জানিয়েছে, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি আরও বিস্তৃত করতে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঞ্চয় সেবা তাদের প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে বিকাশ অ্যাপ থেকে পাঁচটি ব্যাংক ও একটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাপ্তাহিক ও মাসিক ডিপিএস খোলা যাচ্ছে। ডিজিটাল সেভিংস সেবার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত গ্রাহকরা ৬০ লাখের বেশি ডিপিএস খুলেছেন।
ইস্টার্ন ব্যাংকের ডিপিএসে প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত জমা রাখা যাবে। মেয়াদ নির্ধারণ করা যাবে ৬ মাস, ১ বছর, ২ বছর, ৩ বছর অথবা ৪ বছর।
নতুন ডিপিএস খুলতে বিকাশ অ্যাপের হোমস্ক্রিন থেকে ‘সেভিংস’ অপশনে গিয়ে ‘নতুন সেভিংস খুলুন’ নির্বাচন করতে হবে। এরপর ‘সাধারণ সেভিংস’ থেকে মাসিক ডিপিএস, মেয়াদ ও মাসিক কিস্তির পরিমাণ নির্বাচন করে আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তালিকা থেকে ইস্টার্ন ব্যাংক বেছে নিতে হবে। প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে শর্তাবলিতে সম্মতি জানিয়ে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন দিয়ে আবেদন সম্পন্ন করা যাবে।
ডিপিএস চালু হলে নির্ধারিত তারিখে বিকাশ অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত ব্যালেন্স থাকলে কিস্তির টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে কেটে নেওয়া হবে। মেয়াদ শেষে মুনাফাসহ মূল টাকা বিকাশ অ্যাকাউন্টে জমা হবে, যা কোনো অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ক্যাশ আউট করা যাবে। নির্ধারিত সময় অতিক্রমের পর প্রয়োজনে অ্যাপ থেকেই ডিপিএস ভাঙার সুযোগও থাকবে।
ইস্টার্ন ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং রিটেইল ও এসএমই ব্যাংকিং প্রধান এম খোরশেদ আনোয়ার উল্লেখ করেছেন, বিকাশ অ্যাপের মাধ্যমে ইবিএল ডিপিএস চালু হওয়ায় সঞ্চয় সেবা আরও সহজ, দ্রুত এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। তার ভাষ্য, এর মাধ্যমে বৃহত্তর গ্রাহকগোষ্ঠীর কাছে ব্যাংকের সঞ্চয় সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।
বিকাশের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আলী আহম্মদ বলেছেন, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ ধরনের সহযোগিতা দেশের আরও বেশি মানুষকে আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবার আওতায় আনছে। তার মতে, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা, চাকরিজীবী, কৃষক, গৃহিণী, শিক্ষার্থী ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষ কাগজপত্রের ঝামেলা ছাড়াই সহজে সঞ্চয়ের সুযোগ পাচ্ছেন।
২০২১ সালে আইডিএলসি ফাইন্যান্স পিএলসির মাসিক ডিপিএস দিয়ে বিকাশের ডিজিটাল সেভিংস সেবার যাত্রা শুরু হয়। পরে এতে যুক্ত হয় ঢাকা ব্যাংক পিএলসি, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক পিএলসি, সিটি ব্যাংক পিএলসি এবং ব্র্যাক ব্যাংক পিএলসি। সর্বশেষ যুক্ত হলো ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসি।
বিকাশের তথ্য অনুযায়ী, অ্যাপের মাধ্যমে খোলা মোট ডিপিএসের প্রায় ৩৪ শতাংশ খুলেছেন নারী গ্রাহক। এ ছাড়া ৫৫ শতাংশ ডিপিএস খোলা হয়েছে ব্যাংকিং সময়ের বাইরে। যেসব গ্রাহকের ডিপিএসের মেয়াদ শেষ হয়েছে, তাদের ৯৬ শতাংশ আবারও বিকাশ অ্যাপে নতুন ডিপিএস খোলার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।




