চীনের হাসপাতালের সঙ্গে যমুনা ব্যাংক ও বিআরএইচসির ত্রিপক্ষীয় চুক্তি

সংগৃহীত ছবি
যমুনা ব্যাংক পিএলসি, বেল্ট অ্যান্ড রোড হেলথ কেয়ার সেন্টার বিআরএইচসি এবং চীনের শীর্ষস্থানীয় চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি ত্রিপক্ষীয় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। ২২ এপ্রিল ২০২৬ রাজধানীর গুলশান-১ এ যমুনা ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত অনুষ্ঠানে চুক্তিটি সম্পন্ন হয়। এ উদ্যোগের ফলে বাংলাদেশি রোগীদের জন্য চীনে বিশ্বমানের স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ আরও সহজ হবে।
চুক্তিতে যমুনা ব্যাংকের পক্ষে উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. জাহাঙ্গীর আলম, বিআরএইচসির পক্ষে অপারেশনস বিভাগের উপ-ব্যবস্থাপক আবিদুর রহমান, গুয়াংজু ফোসান চ্যানচেং হাসপাতালের পক্ষে আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিভাগের ব্যবস্থাপক লিউ ওয়েনজুয়ান এবং শেনজেন হেংশেং হাসপাতালের পক্ষে এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ঝাং ফান স্বাক্ষর করেন।
অনুষ্ঠানে শেনজেন হেংশেং হাসপাতালের মার্কেটিং ম্যানেজার গুও চেং ঝুও, ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল সেন্টারের পরিচালক উ পেং এবং বিআরএইচসির নির্বাহী পরিচালক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হকসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চুক্তির আওতায় রোগী রেফারেল, চিকিৎসা সমন্বয় এবং চীনে উন্নত চিকিৎসা গ্রহণের জন্য একটি সমন্বিত কাঠামো গড়ে তোলা হবে। বিআরএইচসি প্রধান মেডিকেল ফ্যাসিলিটেটর হিসেবে রোগী সমন্বয়, হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ এবং সার্বিক সেবা ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে। যমুনা ব্যাংকের কার্ডধারী গ্রাহকেরা নির্ধারিত শর্তে চীনে চিকিৎসার মোট ব্যয় ২০ হাজার আরএমবি অতিক্রম করলে সর্বোচ্চ ৮ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় সুবিধা পাবেন।
মো. জাহাঙ্গীর আলম উল্লেখ করেছেন, গ্রাহকদের জন্য উন্নত সেবা ও বিশেষ সুবিধা নিশ্চিত করাই ব্যাংকের লক্ষ্য এবং এই চুক্তির মাধ্যমে বিদেশে চিকিৎসা গ্রহণ আরও সহজ ও সাশ্রয়ী হবে।
প্রকৌশলী মো. মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন, বিআরএইচসি দীর্ঘদিন ধরে মেডিকেল ট্যুরিজম সেবা দিয়ে আসছে এবং এই উদ্যোগের ফলে রোগীদের জন্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শ, অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং মেডিকেল ভিসা সহায়তাসহ সেবা আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে।
আবিদুর রহমান তার ভাষ্যে উল্লেখ করেছেন, চীনে চিকিৎসা নিতে আগ্রহী রোগীদের জন্য সমন্বিত ও পেশাদার সেবা নিশ্চিত করে পুরো প্রক্রিয়াকে সহজ ও স্বচ্ছ করা হবে।
সমঝোতার আওতায় ১২টি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত চীনা হাসপাতাল অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যেখানে অনকোলজি, চক্ষু, অস্থি, শিশুরোগ, ঐতিহ্যবাহী চীনা চিকিৎসাসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত সেবা প্রদান করা হয়। এই অংশীদারিত্ব মেডিকেল ট্যুরিজম খাতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে এবং বাংলাদেশি রোগীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা সেবায় প্রবেশ আরও সহজ করবে।



