এমজিআই’র সিরামিক কারখানা পরিদর্শনে বিদেশি শিক্ষার্থীরা

সফরকালে বিদেশি শিক্ষার্থীদের এমসিআইএলের টেকসই উন্নয়ন কৌশলের ছয়টি প্রধান স্তম্ভ সম্পর্কে জানানো হয়
বিশ্বের ১৫টি দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষার্থী সম্প্রতি মেঘনা গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের (এমজিআই) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান মেঘনা সিরামিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের (এমসিআইএল) পরিবেশবান্ধব ও টেকসই উৎপাদন কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন।
শিক্ষার্থীদের এই প্রতিনিধিদল ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি আয়োজিত ‘গেট এনগেজড: স্টুডেন্ট অ্যাকশন অ্যান্ড ইয়ুথ লিডারশিপ কনফারেন্স ২০২৬’-এ অংশ নিতে বাংলাদেশে এসেছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বের গুণাবলী বিকাশ এবং স্থানীয় ও বৈশ্বিক নানা সমস্যার সমাধান নিয়ে কাজ করার সুযোগ করে দিতেই এই সম্মেলনের আয়োজন।
শিল্পখাতে টেকসই উন্নয়ন কীভাবে বাস্তবে প্রয়োগ করা হয়, সে বিষয়ে শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ ধারণা দেওয়ার লক্ষ্যেই এ সফরের আয়োজন করা হয়। পরিদর্শনের সময় তারা এমসিআইএলের অত্যাধুনিক উৎপাদন সুবিধা ঘুরে দেখেন এবং পরিবেশবান্ধব ও কর্মীবান্ধব শিল্পায়নের বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেন।
এমসিআইএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানান এবং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও টেকসই উন্নয়ন কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেন। পরে একটি নির্দেশিত ভ্রমণের মাধ্যমে উৎপাদনের বিভিন্ন ধাপ এবং কারখানা ব্যবস্থাপনায় কীভাবে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়, তা শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরা হয়।
সফরকালে শিক্ষার্থীদের এমসিআইএলের টেকসই উন্নয়ন কৌশলের ছয়টি প্রধান স্তম্ভ সম্পর্কে জানানো হয়। এগুলো হলো— ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা শূন্যে নামিয়ে আনা ও ক্লোজড-লুপ হাইড্রোলজি ব্যবস্থা, নির্গমনমুক্ত কিলন পরিচালনা, উন্নত তাপ ব্যবস্থাপনা, ধুলাবালিমুক্ত কর্মপরিবেশ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার এবং প্রাকৃতিক আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
বাংলাদেশের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে টেকসই উন্নয়নের নীতিমালা কীভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে, তা দেখে শিক্ষার্থীরা আগ্রহ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, এই সফর দায়িত্বশীল শিল্পায়ন কীভাবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও পরিবেশ সংরক্ষণকে একসঙ্গে এগিয়ে নিতে পারে, সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা দিয়েছে।
কিরগিজস্তানের এসবিবি স্মলনি বিয়ন্ড বর্ডার্স ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আলেনা মাসলোভা বলছিলেন, ‘এই সফর আমাদের দেখিয়েছে কীভাবে টেকসই উন্নয়নের ধারণা বাস্তব শিল্প কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। এমজিআইয়ের পানি পুনর্ব্যবহার, ধুলা নিয়ন্ত্রণ এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির উদ্যোগগুলো ছিল অনুপ্রেরণাদায়ক ও শিক্ষণীয়।’
ফিলিস্তিনের আল-কুদস বার্ড কলেজ ফর আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেসের (একিউবি) শিক্ষার্থী গ্রেস আওয়াদ বলেন, ‘পরিবেশগত দায়িত্বশীলতার পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করার বিষয়টিও এখানে গুরুত্ব পেয়েছে। বিষয়টি আমাকে উৎসাহিত করেছে।’
ইয়েমেনের বার্ড কলেজ বার্লিনের শিক্ষার্থী নাসর আল-আঘবারি জানাচ্ছিলেন, ‘এ ধরনের কারখানা পরিদর্শন আমার জন্য একেবারেই নতুন অভিজ্ঞতা। বিশেষ করে পানি পুনর্ব্যবহার এবং ধুলা নিয়ন্ত্রণে এমজিআইয়ের উদ্যোগ আমাকে মুগ্ধ করেছে।’
ইউক্রেনের বার্ড কলেজ বার্লিনের শিক্ষার্থী সোলোমিয়া কুলাচকোভস্কা বলেছেন, ‘টেকসই উন্নয়নকে বাস্তবে প্রয়োগ হতে দেখে আমি সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি। বিশেষ করে পানি শোধন ও পুনর্ব্যবহার ব্যবস্থা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। পৃথিবীতে এমজিআইয়ের মতো আরও অনেক প্রতিষ্ঠান থাকুক, সেটাই আমি চাই।’
সম্মেলনের অংশ হিসেবে ব্র্যাক ইউনিভার্সাটির ক্যাম্পাসে আয়োজিত একটি প্রদর্শনীতেও এমজিআই তাদের উদ্ভাবনী ‘প্লাস্টিক ফার্মিং’ উদ্যোগ তুলে ধরে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবহার করে ভাসমান চাষের বেড তৈরি করা হয়, যেখানে ভূমিহীন কৃষকেরা জলাশয়ে সবজি চাষ করতে পারেন।
টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ, প্লাস্টিক দূষণ হ্রাস এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন জীবিকার সুযোগ তৈরি করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য। শিক্ষার্থীরা প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন, প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত জানেন এবং এর সামাজিক ও পরিবেশগত সম্ভাবনা নিয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেন।




