আদানি পাওয়ারের মুনাফা বেড়েছে ১৪১ শতাংশ

ফাইল ছবি
ভারতের বেসরকারি খাতের বৃহত্তম তাপবিদ্যুৎ উৎপাদক আদানি পাওয়ার লিমিটেডের (এপিএল) চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর ২০২৬) মুনাফা বেড়েছে ১৪১.৫ শতাংশ।
টাকার অঙ্কে যা ৯ হাজার ১২৫ কোটি ১২ লাখ টাকা (৭ হাজার ১৯ কোটি ৩২ লাখ রুপি)। আগের অর্থবছরের একই সময়ে ছিল ৩ হাজার ৭৭৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা (২ হাজার ৯০৬ কোটি ৪৬ লাখ রুপি)।
ভারতের ঝাঁড়খন্ডে নির্মিত তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে আদানি বাংলাদেশে গড়ে ১৩০০ থেকে ১৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে। ভারতীয় এই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে হওয়া চুক্তিটিকে অসম আখ্যা দিয়েছেন অনেকেই। বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে বিলম্ব হলেই সরবরাহ বন্ধ কিংবা কমিয়ে দেওয়ার নজিরও রয়েছে কোম্পানিটির।
আদানির প্রকাশিত আর্থিক ফলাফল অনুযায়ী, দ্বিতীয় প্রান্তিকে চলমান কার্যক্রম থেকে পরিচালন আয় ২৯.৮ শতাংশ বেড়ে ২২ হাজার ১১৮ কোটি ২৮ লাখ টাকায় (১৭ হাজার ১৪ কোটি ৬ লাখ রুপি) দাঁড়িয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ আয় ছিল ১৭ হাজার ৩৮ কোটি ২৪ লাখ টাকা (১৩ হাজার ১০৬ কোটি ৩৪ লাখ রুপি)।
এ সময়ে চলমান কার্যক্রমের ইবিটডা (সুদ, কর, অবচয় ও পরিশোধ-পূর্ব আয়) ১৮.৫ শতাংশ বেড়ে ৮ হাজার ২১৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা (৬ হাজার ৩২১ কোটি রুপি) হয়েছে। অন্যদিকে, এককালীন পূর্ববর্তী সময়ের আয়সহ প্রতিবেদনভুক্ত মোট রাজস্ব ৩৯.৪ শতাংশ বেড়ে ২৫ হাজার ৯৩৬ কোটি ৩০ লাখ টাকায় (১৯ হাজার ৯৫১ কোটি রুপি) পৌঁছেছে।
আদানি জানিয়েছে, বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তির (পিপিএ) আওতায় বিক্রি বৃদ্ধি এবং উন্নত ট্যারিফ ও বাণিজ্যিক বাজারে ভালো মূল্যপ্রাপ্তি মুনাফা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে আমদানি করা কয়লার ব্যয় বৃদ্ধিতে জ্বালানি খরচও বেড়েছে। দ্বিতীয় প্রান্তিকে এ খরচ ৪১.৮ শতাংশ বেড়ে ১৩ হাজার ২৯৭ কোটি ৭০ লাখ টাকায় (১০ হাজার ২২৯ কোটি রুপি) দাঁড়ায়। এদিকে, অর্থায়ন ব্যয় ৯.৭ শতাংশ কমে ৯৮৮ কোটি টাকায় (৭৬০ কোটি রুপি) নেমেছে।
চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির কর-পরবর্তী মুনাফা ৯১.৪ শতাংশ বেড়ে ১৫ হাজার ৪৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা (১১ হাজার ৮৮৬ কোটি রুপি) হয়েছে। এ সময়ে চলমান কার্যক্রম থেকে পরিচালন আয় বেড়েছে ২৮.৯ শতাংশ।
বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২৩ হাজার ৭২০ মেগাওয়াট নতুন তাপবিদ্যুৎ সক্ষমতা যুক্ত করছে এপিএল। কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, কোরবা দ্বিতীয় পর্যায়ের ৬৬০ মেগাওয়াট ইউনিট গ্রিডের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে; শিগগিরই এটি চালু হওয়ার কথা। এ ছাড়া মধ্যপ্রদেশের দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পটি ২০২৭-২৮ অর্থবছরের শুরুর দিকে পুরোপুরি চালুর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
ব্যবসা সম্প্রসারণেও উদ্যোগ নিয়েছে আদানি। উত্তরাখণ্ডের ৩৩০ মেগাওয়াটের অলকানন্দা জলবিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনাকারী জিভিকে এনার্জি অধিগ্রহণের জন্য সফল রেজল্যুশন আবেদনকারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে এপিএল। পাশাপাশি উত্তরাখণ্ডে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ২৫ বছরের চুক্তিও করেছে প্রতিষ্ঠানটি। ভুটানের ৭৭০ মেগাওয়াটের চামকারছু জলবিদ্যুৎ প্রকল্পেও অংশীদারত্ব গড়ছে তারা।
এদিকে, কেয়ার রেটিংস ও ইন্ডিয়া রেটিংস কোম্পানিটির ঋণমান ‘এএ স্টেবল’ থেকে বাড়িয়ে ‘এএ প্লাস স্টেবল’ করেছে। ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কোম্পানিটির মোট ঋণ ছিল ৮০ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা (৬১ হাজার ৮৬০ কোটি রুপি) এবং নিট ঋণ ৫৯ হাজার ৫৯৯ কোটি ৮০ লাখ টাকা (৪৫ হাজার ৮৪৬ কোটি রুপি)।
আদানি পাওয়ারের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এস বি খ্যালিয়া বলেন, ভারতের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে নির্ভরযোগ্য সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং ২০৩২ সালের মধ্যে নতুন ১০০ গিগাওয়াট তাপবিদ্যুৎ সক্ষমতা সংযোজনের জাতীয় লক্ষ্যে অবদান রাখাই কোম্পানির অগ্রাধিকার।



