নিবন্ধনের বাইরে ফুটপাতের ভাসমান দোকান
- বিএফএসএর আবেদন গ্রহণ শুরু আজ

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
খাদ্য ব্যবসার নিবন্ধন ও লাইসেন্স কার্যক্রম আজ থেকে শুরু করছে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ (বিএফএসএ)। এ কার্যক্রমের আওতায় এখনই আসছেন না ফুটপাতের ভাসমান খাদ্য বিক্রেতারা। তাদের নিবন্ধন বা লাইসেন্স দেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত ১৬ জুলাই ‘নিরাপদ খাদ্য (রেজিস্ট্রেশন ও লাইসেন্স) প্রবিধানমালা, ২০২৬’-এর প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। এতে ১৬টি ক্যাটাগরির খাদ্য ব্যবসাকে নিবন্ধন ও লাইসেন্সের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে বেকারি, জুস, পানীয়, পিঠাপুলি, ফাস্টফুড ও ক্যাটারিং সার্ভিসের মতো ব্যবসার উল্লেখ থাকায় ভাসমান বিক্রেতাদেরও নিবন্ধন নিতে হবে কি না, তা নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য (আইন ও নীতি) মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার আগামীর সময়কে বলেছেন, ফুটপাতের ব্যবসাকে কর্তৃপক্ষ সরাসরি স্বীকৃতি দেয় না। ভাসমান খাদ্য বিক্রেতাদের নিবন্ধন দেওয়া হলে তা ফুটপাত বা রাস্তা দখলকে বৈধতা দেওয়ার শামিল হবে, যা সরকার স্বীকৃতি দেয় না।
তিনি বললেন, নিবন্ধনের আবেদন ফরমে বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানার তথ্য দিতে হয়। যাদের নির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক ঠিকানা নেই, তাদের নিবন্ধন বা লাইসেন্স দেওয়া সম্ভব নয়। হকারদের জন্য নির্দিষ্ট জোন তৈরি করে পুনর্বাসন এবং নীতিমালার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত সরকার থেকে এলে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া যাবে।
বড় প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার
প্রাথমিক পর্যায়ে বড় খাদ্যপ্রতিষ্ঠানগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা হচ্ছে। বিপুল পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন বা বাজারজাত করে এবং বহু ভোক্তার কাছে পৌঁছায়, এমন প্রতিষ্ঠানকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য সহায়ক, সম্পূরক ও আমদানি করা খাদ্যপণ্যের ব্যবসায়ীদেরও নজরদারিতে আনার লক্ষ্য রয়েছে।
প্রবিধানমালার ১৬টি ক্যাটাগরির মধ্যে প্রথম ১১টির ক্ষেত্রে শুধু নিবন্ধন বাধ্যতামূলক। বাকি পাঁচটি ক্যাটাগরিতে নিবন্ধনের পাশাপাশি লাইসেন্স নিতে হবে। এসব ক্যাটাগরির আওতায় রয়েছে বিশেষায়িত খাদ্য, স্বাস্থ্য সহায়ক দাবি সংবলিত পণ্য, জিনগত পরিবর্তিত খাদ্য, জৈব খাদ্য এবং খাদ্য সংযোজন দ্রব্যের উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, আমদানি ও বিপণন।
প্রথমবার নিবন্ধনের জন্য কোনো ফি দিতে হবে না। নিবন্ধনের মেয়াদ তিন বছর। মেয়াদ শেষে নবায়ন ফি ১০০ টাকা এবং বিলম্ব ফি প্রতি মাসে ১০০ টাকা। অন্যদিকে ১২ থেকে ১৬ নম্বর ক্যাটাগরির লাইসেন্সের জন্য প্রাথমিক আবেদন ও চূড়ান্ত প্রাপ্তি মিলিয়ে ৬ হাজার টাকা দিতে হবে। খাদ্য স্থাপনার আয়তন অনুযায়ী লাইসেন্স ফি ১০ থেকে ৬০ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনে ১০ হাজার টাকা এবং পণ্য পরীক্ষায় অতিরিক্ত ১০ শতাংশ ফি প্রযোজ্য।
তদারকি সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন
দেশের প্রায় সাড়ে চার লাখ খাদ্য ব্যবসায়ীকে নিয়মতান্ত্রিক কাঠামোয় আনার উদ্যোগের বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিভিন্ন সংগঠন। কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেছেন, ফুটপাত থেকে সুপারশপ পর্যন্ত বিস্তৃত খাদ্য খাত তদারকির মতো পর্যাপ্ত জনবল ও সক্ষমতা বিএফএসএর নেই।
তিনি বললেন, বাজারে একাধিক সরকারি সংস্থা নজরদারি করছে। এ অবস্থায় সব প্রশাসনিক ক্ষমতা এক প্রতিষ্ঠানের অধীনে নেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। নিবন্ধন ও লাইসেন্সের কারণে ব্যবসায়ীদের ব্যয় বাড়লে শেষ পর্যন্ত তার চাপ পড়বে ভোক্তার ওপর। চলমান মূল্যস্ফীতির মধ্যে এটি নতুন সংকট তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেছেন, দেশে প্রায় ৪ লাখ ৮১ হাজার রেস্তোরাঁ রয়েছে। সুনির্দিষ্ট ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া হঠাৎ গেজেট জারি করে মাঠপর্যায়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। এতে ব্যবসায়ীদের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি প্রশাসনিক দুর্নীতির সুযোগও বাড়তে পারে।



