ইশতেহার বাস্তবায়নে শিক্ষা-স্বাস্থ্যে জোর

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতকে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে যাচ্ছে সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা বাজেট কাঠামোয় দেখা যায়, মানবসম্পদ উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং সামাজিক অন্তর্ভুক্তিকে কেন্দ্র করে বড় অঙ্কের বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অর্থনীতিবিদদের প্রশ্ন, শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই সেবার মান বাড়বে না। এখন বাস্তবায়ন দক্ষতা হবে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
বাজেট নথি অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে শিক্ষা খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ৬৬৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হবে, যা জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ১ লাখ ২১ হাজার ৭০৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি অতিরিক্ত বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষা খাতের বরাদ্দে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে শিক্ষা সম্প্রসারণ, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়ন, তৃতীয় লিঙ্গসহ পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়ানোর উদ্যোগকে। পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষায় জোর দেওয়ার ইঙ্গিতও রয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীল শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে বাংলাদেশের বাস্তবতায় বরাদ্দের বড় অংশ যদি অবকাঠামো নির্মাণেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে কাঙ্ক্ষিত মানবসম্পদ উন্নয়ন অর্জন কঠিন হবে।
অন্যদিকে স্বাস্থ্য খাতে আগামী অর্থবছরে ৬৯ হাজার ৩০৯ কোটি টাকা বরাদ্দ থাকছে, যা জিডিপির প্রায় ১ শতাংশ। আগের অর্থবছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৩৪ হাজার ৯০০ কোটি টাকার কিছু বেশি। স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির পেছনে নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের স্পষ্ট ছাপ রয়েছে।
প্রস্তাবিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ওষুধ ও টিকা সরবরাহ নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ, সরকারি হাসপাতালের অবকাঠামো উন্নয়ন, জরুরি চিকিৎসা ও অ্যাম্বুলেন্সসেবা সম্প্রসারণ, নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং ই-হেলথ কার্ড কার্যক্রম বাস্তবায়ন। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবাকে জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষা, স্বাস্থ্য— উভয় খাতেই মূল সমস্যা বরাদ্দের ঘাটতি নয়, বরং ব্যয়ের দক্ষতা ও সেবার মান। বহু বছর ধরেই দেখা যাচ্ছে, উন্নয়ন প্রকল্পের বাস্তবায়ন ধীরগতি, জনবল সংকট এবং সুশাসনের অভাবে প্রত্যাশিত ফল পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে নতুন বাজেটে বরাদ্দ বৃদ্ধির প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে বাস্তবায়নের ওপর।




