তিন অর্থবছরে বরাদ্দ ৩৫০৮০ কোটি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে দেশে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। ফলে প্রতি বছর ব্যাপক সম্পদ ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে দেশ। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন কার্যক্রমে ছয়টি কৌশল নিয়েছে সরকার। সেই সঙ্গে নেওয়া হয়েছে নানা কার্যক্রম। পাশাপাশি আগামী তিন অর্থবছরের জন্য আগাম বরাদ্দ প্রক্ষেপ করা হয়েছে ৩৫ হাজার ৮০ কোটি টাকা (থোক ও নিজস্ব অর্থায়ন ছাড়া)। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আওতায় পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে এই বরাদ্দ দেওয়া হবে। চলতি অর্থবছরের এডিপি তৈরির সময়ই পরিকল্পনা বিভাগ থেকে এসব কৌশল ও প্রক্ষেপণ তুলে ধরা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা সচিব এস এম শাকিল আকতার আগামীর সময়কে বলেছেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে মিল রেখে টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য পরিকল্পিতভাবে অগ্রসর হওয়ার বিকল্প নেই। এ কারণে এবারই প্রথম খাতভিত্তিক চলতি অর্থবছরের উন্নয়ন বরাদ্দের পাশাপাশি আগামী তিন অর্থবছরের জন্য বরাদ্দের প্রক্ষেপণ রাখা হয়েছে। সূত্র জানায়, পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানিসম্পদ খাতে চলতি অর্থবছর ১১১টি প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৯ হাজার ৬৩৫ কোটি টাকা। আগামী ২০২৭-২৮ অর্থবছরে সম্ভাব্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১০ হাজার ৫৯৮ কোটি টাকা। এ ছাড়া ২০২৮-২৯ অর্থবছরের জন্য ১১ হাজার ৬৫৮ কোটি এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরের জন্য ১২ হাজার ৮২৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে।
পরিকল্পনা বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, পরিবেশ ও প্রতিবেশের ভারসাম্য রক্ষা তথা জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু পরিবর্তন সাব-সেক্টরের গুরুত্ব অপরিসীম। বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে প্রায় প্রতি বছর তীব্র ঝড়, বন্যা, ঘূর্ণিঝড় ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে দুর্যোগের শিকার হয়। এ ছাড়া বর্তমানে বাংলাদেশ বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তনজনিত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) লক্ষ্যমাত্রা-১৩ অর্জনে এবং নগবঠিত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে টেকসই সুষম উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, হাওর ও উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়ন, বিজ্ঞানভিত্তিক বৃক্ষরোপণ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সমন্বিত পানিসম্পদ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিষয়কে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
সরকারের কৌশল: জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই ও কার্যকর কর্মকৌশল গ্রহণ করা। এ ছাড়া পানি নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সমন্বিত পানিসম্পদ পরিকল্পনা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার আওতায় খাল খনন, বাঁধ নির্মাণ ও পুনর্নির্মাণ, উপকূলীয় ও হাওর অঞ্চলের উন্নয়নসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জমির লবণাক্ততা দূরীকরণ ও ভূমি পুনরুদ্ধারকরণ। আরও আছে শুষ্ক মৌসুমে নদনদীর প্রবাহ অব্যাহত রাখার জন্য উজানের দেশগুলোর সঙ্গে অভিন্ন নদনদীর পানি বণ্টনে বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ, ওয়াটার কনভেনশন ও যৌথ নদী কমিশনকে শক্তিশালীকরণে কর্মপন্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণের ক্ষেত্রে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু অভিঘাত-সহনশীল উন্নয়ন, কার্বন ক্রেডিট থেকে আয় ও কার্বন ট্রেডিং মার্কেট, প্লাস্টিক দূষণ রোধে কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বর্জ্যকে সম্পদে রূপান্তরে কার্যকর কৌশল নেওয়া।






