দেশে জনপ্রিয় হচ্ছে জাপানি খাবার

সংগৃহীত ছবি
ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় দেশে জাপানি খাবারের চাহিদা বৃদ্ধি পাচ্ছে। একসময় জাপানি খাবার মূলত ঢাকায় বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তা স্থানীয় ভোক্তাদের কাছেও পরিচিতি পেয়েছে। স্বাস্থ্যসচেতনতা এবং নতুন স্বাদের প্রতি আগ্রহ রেস্তোরাঁ খাতের এই বাজার সম্প্রসারণে প্রধান ভূমিকা রাখছে।
খাতসংশ্লিষ্টদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বর্তমানে ৫০টির বেশি জাপানি ও জাপানি ধাঁচের রেস্তোরাঁ পরিচালিত হচ্ছে। এসব রেস্তোরাঁর মধ্যে কিয়োশি, ইজুমি, উমাই, ইযাকায়া, টোকিও এক্সপ্রেস, সুশি তেই, সুশি সামুরাই ও গোজো রামেনের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো ভোক্তাদের কাছে বেশ পরিচিতি লাভ করেছে।
খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞদের মতে, জাপানি খাবারের মূল বৈশিষ্ট্য হলো তাজা উপকরণের ব্যবহার এবং পরিমিত মসলা। এসব খাবারে সামুদ্রিক মাছ, সামুদ্রিক শৈবাল, ভাত ও ফারমেন্টেড বা গাঁজানো উপাদানের (যেমন-মিসো) ব্যবহার বেশি থাকে। প্রোটিন, ভিটামিন ও ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিডসমৃদ্ধ এবং তুলনামূলক কম ক্যালরিযুক্ত হওয়ায় ভোক্তারা ফাস্টফুডের বিকল্প হিসেবে সুশির বিভিন্ন ধরন (নিগিরি ও মাকি রোল), রামেন, টেম্পুরা, সাশিমি ও বেন্টো বক্স গ্রহণ করছেন।
এ বিষয়ে কিয়োশি রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক অনিমেষ দেউরী আগামীর সময়কে বললেন, ‘২০১৬ সালে আমাদের রেস্তোরাঁটি চালু হলেও করোনা মহামারীর পর থেকে আমরা গ্রাহকদের ধারাবাহিক সাড়া পাচ্ছি। মানুষ এখন ইতিবাচকভাবে নতুন খাবারের স্বাদ নিতে আগ্রহী। চায়নিজ, থাই বা অ্যারাবিক খাবারের পাশাপাশি জাপানি খাবারের প্রতিও মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। বর্তমানে আমাদের রেস্তোরাঁয় বিদেশি নাগরিকদের পাশাপাশি দেশীয় ক্রেতাদের উপস্থিতিও বেশ লক্ষণীয়।’
জাপানি খাবারের এই চাহিদাকে কেন্দ্র করে দেশে বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেট্রো) উদ্যোগে ‘জাপানিজ ফুড শোকেস: দ্য গ্লোবাল গেটওয়ে’ শীর্ষক একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রদর্শনীতে ২০টির বেশি জাপানি কোম্পানি তাদের উৎপাদিত খাদ্যপণ্য ও উপকরণ তুলে ধরে। স্থানীয় ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও জাপানি খাদ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরাসরি ব্যবসায়িক যোগাযোগ তৈরির পাশাপাশি দেশে জাপানি খাদ্যপণ্যের বাজার সম্প্রসারণে এ ধরনের উদ্যোগ ভূমিকা রাখছে।
রেস্তোরাঁয় খাওয়ার পাশাপাশি বাড়িতে জাপানি খাবার তৈরির প্রবণতাও পরিলক্ষিত হচ্ছে। দেশের সুপারশপগুলোয় জাপানি খাদ্য উপকরণ যেমন— সিউইড, ওয়াসাবি, জাপানি সয়াসস, ম্যাচা এবং প্রক্রিয়াজাত সামুদ্রিক মাছের বিক্রি বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে এসব উপকরণের অধিকাংশই জাপান ও কোরিয়া থেকে সরাসরি আমদানি করতে হয়।
খাদ্যপণ্য আমদানির বিষয়ে আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নূর ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের এক কর্মকর্তা আগামীর সময়কে বললেন, ‘আমাদের ফুড সেক্টরটা এখনো অনেক ছোট। তবে আগের চেয়ে জাপানি খাদ্যপণ্যের আমদানি কিছুটা বেড়েছে।’
মূলত ভোক্তাদের রেস্তোরাঁর পাশাপাশি বাড়িতেও এসব খাবার তৈরির চেষ্টার কারণে মূল উপকরণগুলোর চাহিদা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, জাপানি খাবারের বর্ধিত চাহিদা দেশের রেস্তোরাঁ খাতে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ তৈরি করেছে। কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কাঠামোর যৌক্তিকীকরণ এবং সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত করা গেলে আগামীতে রেস্তোরাঁ খাতের পাশাপাশি জাপানি খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পেও যৌথ বিনিয়োগের সম্ভাবনা রয়েছে।



