রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় রোডম্যাপ জরুরি

ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সংবাদ সম্মেলন
করের আওতা সম্প্রসারণ, রাজস্ব প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তর এবং প্রতিযোগিতামূলক বিনিয়োগ পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ফিকি)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর গুলশানে সংগঠনের কার্যালয়ে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এসব সুপারিশ তুলে ধরেন ফিকির সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী।
ফিকির সভাপতি বললেন, বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে সরকারের প্রচেষ্টা ইতিবাচক। তবে টেকসই রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ও বিনিয়োগ বাড়াতে কাঠামোগত সংস্কার, নীতিগত পূর্বানুমেয়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি।
ফিকির মতে, এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে করের আওতা বৃদ্ধি, ব্যবসার ব্যয় কমানো, রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটালাইজেশন এবং সব খাতের জন্য সমতাভিত্তিক ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে। রূপালী হক চৌধুরী বলেছেন, প্রস্তাবিত বাজেট তুলনামূলকভাবে পূর্বানুমানযোগ্য এবং সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধি ইতিবাচক পদক্ষেপ।
রূপালী হক চৌধুরী আরও বলেছেন, দক্ষ মানবসম্পদ গঠনে শিক্ষা ও কর্মমুখী দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচিতে আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে গ্রিন ইনিশিয়েটিভ ও সৌরবিদ্যুৎ খাতে প্রণোদনা জ্বালানি নিরাপত্তা ও টেকসই উন্নয়নে সহায়ক হবে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে বর্তমান অর্থনীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে রূপালী হক চৌধুরী বললেন, সরকার মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও তা বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট কৌশল ও রোডম্যাপ প্রয়োজন।
রাজস্ব আহরণ বাড়াতে ফিকি নন-ফাইলারদের কর নেটের আওতায় আনা, লাইসেন্স ও অনুমোদন নবায়নে কর রিটার্ন বাধ্যতামূলক করা, ভ্যাট ও আয়কর তথ্যের সমন্বিত যাচাই ব্যবস্থা চালু এবং কর প্রশাসনে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর সুপারিশ করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে ফিকির ট্যাক্স কনসালট্যান্ট স্নেহাশীষ বড়ুয়া বললেন, কাস্টমস, ভ্যাট ও আয়কর ব্যবস্থাকে একীভূত করে পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন রোডম্যাপ প্রণয়ন জরুরি। পাশাপাশি এনবিআরের অধীনে বিশেষ ডেটা অ্যান্ড অ্যানালিটিকস টিম গঠন, অভিন্ন ভ্যাট হার চালু, কার্যকর করহার যৌক্তিক পর্যায়ে নামিয়ে আনা এবং কাস্টমস ব্যবস্থার সংস্কারেরও আহ্বান জানানো হয়।
ফিকির মতে, এসব পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হলে কর-জিডিপি অনুপাত বৃদ্ধি, বিনিয়োগকারীদের আস্থা শক্তিশালীকরণ এবং বাংলাদেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতা সক্ষমতা উন্নত হবে।




