৬ দাবিতে কর্মবিরতিতে বগুড়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা

ছবি: আগামীর সময়
৬ দফা দাবিতে বাংলাদেশ সমন্বিত ইন্টার্ন চিকিৎসক ঐক্য পরিষদের ডাকা কর্মসূচিতে একাত্মতা জানিয়েছেন বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। আজ রবিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন তারা। পাশাপাশি দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাসপাতাল চত্বরে করেছেন বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন।
আন্দোলনকারীদের ৬ দফার মধ্যে প্রধান দাবি হলো, স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবারকল্যাণ বিভাগের গত ১৯ মে জারি করা এফসিপিএস প্রশিক্ষণসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার এবং নতুন নির্দেশনা জারি। অন্য দাবির মধ্যে আছে, বিএমইউ ও বিসিপিএসের ভর্তি পরীক্ষার ফি কমিয়ে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে আনা, নতুন পে-স্কেলের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা ন্যূনতম ৩০ হাজার টাকা ও ট্রেইনি চিকিৎসকদের বেতন নবম গ্রেডের সমপর্যায়ে উন্নীত করা, বিসিএস স্বাস্থ্য চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩৪ বছর করা এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত চিকিৎসকদের জন্য সুস্পষ্ট বেতন কাঠামো প্রণয়ন।
ইন্টার্ন চিকিৎসক উপমা বললেন, ‘আমাদের পেশাটি মূলত সেবামূলক। আমরাও চাই না বারবার রাস্তায় নেমে সাধারণ মানুষকে ভোগান্তিতে ফেলতে। হাসপাতালে যেকোনো রোগীর ক্ষেত্রে ফার্স্ট ডিফেন্স হিসেবে আমরাই প্রথম চিকিৎসাসেবা দিই। কিন্তু দুঃখজনকভাবে প্রতিনিয়ত দেশের কোনো না কোনো মেডিকেল কলেজে আমরাই হামলার শিকার হচ্ছি। চিকিৎসকদের সুরক্ষায় এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর নিরাপত্তা আইন করা হয়নি। আমরা সেবা দিতে প্রস্তুত, কিন্তু আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারকে নিতে হবে।’
শজিমেক ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের (আইডিএ) সভাপতি নিয়ামুল হাসান বলেছেন, ‘আজকে আমাদের মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি মূলত আয়োজন করা হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একটি অঘোষিত নোটিসের বিরুদ্ধে। এই ছয় দফা দাবি আদায়ে আজ শুধু আমরাই মাঠে নামি নাই, সারা বাংলাদেশের সকল মেডিকেলের সকল ইন্টার্ন একযোগে কর্মবিরতিতে গিয়েছেন। আমাদের দাবিগুলো অত্যন্ত যৌক্তিক এবং আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এগুলো বাস্তবায়ন করুক।’
দাবি মানা না হলে সমন্বিত সিদ্ধান্তে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে হুঁশিয়ার করেছেন ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রাফিউন জান্নাত।




