কী জনি

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ব্যস্ত রাস্তা। জটলা পাকানো ট্রাফিক। শহরের প্রত্যেক ব্যক্তি যেন একটি করে গাড়ি নিয়ে নেমে পড়েছেন রাস্তায়। যানবাহনের মধ্যে বসেই সবাই মাথা উঁচু করে বোঝার চেষ্টা করছে এত বড় জ্যামের কারণটা কী। কিন্তু কেউ সিগন্যালের পাশে দাঁড়ানো ট্রাফিক পুলিশটির দিকে দ্বিতীয়বার ঘুরেও তাকায় না। রাস্তার আইন নিয়ন্ত্রক যে ইউনিফর্ম পরিহিত একটা বিশাল রোবট! একেবারে একজন জলজ্যান্ত মানুষের মতো দেখতে। চিত্রটি উন্নত বিশ্বের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মনে হলেও ২০৫০ সালে এটিই হবে পুরো বিশ্বের ট্রাফিক পরিস্থিতি। রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজেও রাস্তার অবস্থা নিয়ন্ত্রণে কাজ করবে ভবিষ্যতের রোবটবাহিনী। মার্কিন বহুজাতিক বিনিয়োগ ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান মর্গান স্টেনলি ২০২৪ সালে একটি প্রতিবেদনে এ পূর্বাভাস দেয়। এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘পুলিশ ওয়ান’-এর বিশেষ অবদানকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর লেফটেন্যান্ট রবীন্দ্র সিংয়েরও একই মত।
ভবিষ্যতের পুলিশ রোবট কাজ করবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং মেশিন লার্নিংয়ের মাধ্যমে। ‘হিউম্যানয়েড রোবট’-এর থাকবে হাত, পা এবং এমন একটি মস্তিষ্ক, যেটি নিজে থেকেই নিতে পারবে সব সিদ্ধান্ত। ঠিক একটি মানুষের মতোই। প্রতিটি গাড়ি ও চালকের সব তথ্য ধারণ করা থাকবে এসব রোবটে। আইনশৃঙ্খলা বা জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং দাঙ্গা পরিস্থিতির ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হবে রোবট পুলিশ। মজার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ পূর্বাভাস দেওয়া ‘ফিউচার টাইমলাইন’ ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে হিউম্যানয়েড রোবটের থাকবে একটি বিশেষ যোগ্যতা। মানুষের সঙ্গে যোগাযোগে তারা হবে বেশ শক্তিশালী এবং শহরের প্রত্যেক ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, করসংক্রান্ত তথ্য, ভ্রমণ ও কেনাকাটার বিবরণ এবং অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের নথিপত্র ব্যবহারের সুযোগও থাকবে তাদের। ফলে রোবটগুলো রাস্তায় থাকা মানুষদের তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করতে সক্ষম হবে। এমনটা হলে যে খুব মন্দ হবে, তা কিন্তু নয়। বিপজ্জনক পরিস্থিতি যেমন বোমা নিষ্ক্রিয়করণ এবং কৌশলগত নজরদারিতে এসব রোবট ভালো কাজে আসবে।




