শাহজালালের মাজারের দানবাক্সে বিএনপির সংস্কার চেয়ে বিচিত্র সব চিঠি

সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে পাওয়া চিঠি। ছবি: আগামীর সময়
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্সে এবার পাওয়া গেছে নানা ধরনের চিঠি। এর মধ্যে আছে বিএনপির সাংগঠনিক সংস্কারের প্রস্তাব, স্বামীর ভালো চাকরি ও মানসিক শান্তি কামনায় এক নারীর প্রার্থনা এবং বিদেশে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এক ব্যক্তির লেখা চিঠি।
আজ শনিবার সকালে মাজারের সাতটি দানবাক্স খোলার পর দেশি-বিদেশি মুদ্রার পাশাপাশি এসব চিঠি পাওয়া যায়। এদিন পঞ্চমবারের মতো প্রকাশ্যে দানবাক্সের টাকা গণনা করা হচ্ছে।
দানবাক্সে পাওয়া একটি চিঠি লেখা হয়েছে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উদ্দেশে। এতে দলের সদস্য ও কর্মী হওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ নির্দিষ্ট সাংগঠনিক নিয়ম চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
চিঠির লেখক বিএনপির সদস্য হতে এসএসসি পাস অথবা জিপিএ ২.৫ এবং কর্মী হতে এইচএসসি পাস ও জিপিএ ৩.৫ থাকার শর্ত চালুর অনুরোধ জানিয়েছেন। পাশাপাশি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার আগে কাউকে বিএনপির সঙ্গে যুক্ত না করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি।
চিঠিতে প্রেরকের নাম উল্লেখ নেই। তবে লেখক জানিয়েছেন, ২০১১ সালে রাজনীতিতে যুক্ত হলেও পরে সরে দাঁড়ান। চিঠির শেষে ইংরেজিতে লেখা রয়েছে, ‘I want the change to come through you.....’। এর মাধ্যমে তারেক রহমানের হাত ধরে পরিবর্তন আসার প্রত্যাশা জানিয়েছেন তিনি।
দানবাক্সে পাওয়া আরেকটি চিঠিতে স্বামীর ভালো চাকরি ও মানসিক শান্তির জন্য প্রার্থনা করেছেন এক নারী। নাম-পরিচয়হীন ওই চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘হে শাহজালাল রহমাতুল্লাহি আলাইহি, আপনার উছিলায় আমার আহাল (স্বামী)- উনাকে একটা ভালো চাকরি দিন এবং উনার মানসিক শান্তি দান করুন।’
অন্যদিকে ভৈরবের আবু বক্কর ছিদ্দিক নামের এক ব্যক্তি নিজের ভাইয়ের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ তুলে চিঠি দিয়েছেন। তার অভিযোগ, বিদেশে নেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভাই তাকে অনেক স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন। কিন্তু পরে সেই আশ্বাস পূরণ না করে তার সঙ্গে প্রতারণা করেন।
চিঠিতে আবু বক্কর জানিয়েছেন, ভাইদের মধ্যে তিনি সবার ছোট। এ ঘটনায় তিনি অসহনীয় মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছেন। তবে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরলেও ভাইয়ের সমৃদ্ধি কামনা করেছেন তিনি। তার প্রার্থনা, ভাই যেন হাজার কোটি টাকার মালিক হন।
নিজের যন্ত্রণার কথা গণমাধ্যমের সামনে তুলে ধরতে চিঠিটি প্রকাশের জন্য মাজার কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন আবু বক্কর। চিঠিতে নিজের পরিচয় হিসেবে শুধু নাম ও ভৈরবের কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
হযরত শাহজালাল (রহ.) দরগাহ শরিফের সরেকওম মোতাওয়াল্লি ফতেহ উল্লাহ আল আমান জানান, দানবাক্সে পাওয়া এসব চিঠিতে মানুষের ব্যক্তিগত জীবনের নানা সমস্যা, কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা, পারিবারিক সংকটসহ বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। অনেকে নিজেদের চাওয়া-পাওয়া পূরণের আশায় এসব চিঠি লিখে দানবাক্সে রেখে যান। এটি তাদের ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও আবেগের বহিঃপ্রকাশ।




