নির্বাচন ছাড়াই কমিটি, দেওয়ানগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি হলেন বিএনপি নেতা

আতিকুর রহমান সাজু
কোনো নির্বাচন ছাড়াই জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি হয়েছেন দেওয়ানগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আতিকুর রহমান সাজু।
সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই প্রেস ক্লাবের সভাপতি হলেন তিনি। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
শনিবার (৩ অক্টোবর) বিকালে দেওয়ানগঞ্জ শহরের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনে প্রেস ক্লাবের কার্যনির্বাহী পরিষদের সভা শেষে তিন বছরমেয়াদি নতুন কমিটি ঘোষণা করা হয়। প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক খাদেমুল ইসলাম নতুন কমিটির সদস্যদের নাম ঘোষণা করেন। কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে দৈনিক সমকালের আব্দুর রাজ্জাক মিকাকে।
স্থানীয় সাংবাদিকদের দাবি, আতিকুর রহমান সাজু চলতি বছরের মে মাসে অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিএনএ২৪ নিউজের মাধ্যমে সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। এর কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি প্রেস ক্লাবের সভাপতি হলেন।
আতিকুর রহমান সাজু বর্তমানে দেওয়ানগঞ্জ পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। এর আগে তিনি পৌর বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব ছিলেন। তার বড় ভাই আব্দুর রশিদ সাদা দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
নতুন কমিটিতে আগামীর সময়ের তারেক মাহমুদকে সিনিয়র সহসভাপতি করা হয়েছে। সহসভাপতি হয়েছেন নাগরিক টিভির খাদেমুল ইসলাম অলিদ, ভোরের কাগজের বিল্লাল মণ্ডল, বাংলাবাজার পত্রিকার আশরাফ হোসেন রাজা, চ্যানেল এসের ফারুক মিয়া, দৈনিক আমার সময়ের দেলোয়ার হোসেন ও দৈনিক বাংলার নজরুল ইসলাম। মহসিন রেজা রুমেলকে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, জাহিদুল ইসলাম পিকুলকে সহসাধারণ সম্পাদক এবং সাইফুল ইসলাম ফুলুকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়েছে। কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে ২১ জনের নাম থাকার কথা জানানো হলেও এখন পর্যন্ত মোস্তাফিজ সালাম সজীবের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি সদস্যদের নাম পরে চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক মিকা।
নতুন সভাপতি আতিকুর রহমান সাজুর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকতায় যুক্ত হওয়ার বিষয়ে প্রশ্ন করতেই তিনি ব্যস্ততার কথা বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। পরে অন্য একজন সাংবাদিক ফোন করলেও পরিচয় জানার পর তিনি একইভাবে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
প্রেস ক্লাব জামালপুরের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘সাংবাদিকদের মূল কাজ সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করা এবং ক্ষমতাকে প্রশ্ন করা। কিন্তু সেই ক্ষমতার অধিকারী নেতারাই যদি সাংবাদিকদের সংগঠন নিয়ন্ত্রণ করেন, তবে স্বাধীন সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘রাজনৈতিক দলের নেতারা সাধারণত বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ মেনে নিতে পারেন না। একজন সক্রিয় রাজনীতিক প্রেস ক্লাবের দায়িত্বে থাকলে ওই এলাকায় সুস্থ ধারার সাংবাদিকতার পরিবেশ নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ থেকে যায়।’
জেলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি মো. ইউসুফ আলী বলেন, ‘এটি হওয়া উচিত নয়। এতে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষা করা কঠিন হয়ে যাবে।’



