গাংনীতে শিয়ালের কামড়ে নারী-শিশুসহ আহত ১৪

শিয়ালের কামড়ে আহতদের চিকিৎসা চলছে গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
মেহেরপুরের গাংনীর হিন্দা ও মাইলমারী গ্রামে শিয়ালের কামড়ে নারী ও শিশুসহ অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন। আজ শনিবার বিকালে ও সন্ধ্যায় পৃথক ঘটনায় তারা আহত হন।
আহতদের মধ্যে সাতজনকে গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া কয়েকজন মেহেরপুর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাসেল রানা।
স্থানীয়রা জানান, শনিবার বিকালে হিন্দা গ্রামের রেজাউল হকের বাড়িতে একটি শিয়াল ঢুকে। এ সময় রেজাউল হকের স্ত্রী আমিরন খাতুন শিয়ালটিকে তাড়াতে গেলে সেটি তার হাতে কামড় দেয়। মাকে রক্ষা করতে মেয়ে আরশুনা এগিয়ে এলে তাকেও কামড়ায় শিয়ালটি। পরে বাড়ি থেকে বের হয়ে আশপাশে যাদের সামনে পেয়েছে, তাদের ওপর আক্রমণ করে। এতে ওই গ্রামের অন্তত ১২ জন আহত হন।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন মুতার মণ্ডলের মেয়ে বাছিরন (৭৫), লুৎফর হোসেনের মেয়ে শিউলী খাতুন (৪৮), রেজাউল হকের স্ত্রী আমিরন খাতুন (৫০), মেয়ে আরশুনা (৩০), আব্বাসের ছেলে নুর মোহাম্মদ (১৮) ও জেরিন (১৬)। এ ছাড়া একই গ্রামের আরও অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, শনিবার সন্ধ্যায় মাইলমারী গ্রামের ধলা এলাকায় শিয়ালের কামড়ে আরও দুজন আহত হন। তারা হলেন নুরুল ইসলামের ছেলে বিএনপি নেতা আবু জাফর এবং গোলাম হোসেনের ছেলে আব্দুল খালেক (৪৫)।
আবু জাফর জানান, মাইলমারী বিলের ধারে তারা তিনজন বসে গল্প করছিলেন। এ সময় মাঠের দিক থেকে হঠাৎ একটি শিয়াল তাদের কাছে চলে আসে। পেছনে তাকিয়ে দেখেন, শিয়ালটি তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই সেটি তাকে আক্রমণ করে মুখে কামড় দেয়। তাকে রক্ষা করতে গিয়ে আব্দুল খালেকও শিয়ালের কামড়ে আহত হন।
হিন্দা গ্রামের আহত আমিরন খাতুন বলেন, ‘বাড়ির মধ্যে হঠাৎ একটি শিয়াল ঢুকে পড়ে। সেটিকে তাড়াতে গেলে শিয়ালটি আমার হাতে কামড় দেয়। পরে আমার মেয়ে এগিয়ে এলে তাকেও কামড়ায়। এরপর শিয়ালটি বাড়ি থেকে বের হয়ে সামনে যাকে পেয়েছে, তাকেই কামড়াতে থাকে।’
গাংনী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাসেল রানা জানান, শিয়ালের কামড়ে আহত ব্যক্তিদের র্যাবিসের টিকা দেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।



