কারাগারে ‘ধর্ষক’, হাসপাতালে কাতরাচ্ছে ৯ বছরের শিশু

গ্রেপ্তার ইমারত হোসেন
রংপুরের হারাগাছ থানার একটি গ্রামে ৯ বছরের এক শিশু শিক্ষার্থীকে ‘ধর্ষণের’ অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ইমারত হোসেন (৫১) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বর্তমানে শিশুটি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
শরীরে যন্ত্রণা নিয়ে কাতরাচ্ছে শিশুটি। ঘুম ভাঙলেই মাকে জাপটে ধরে রাখছে। চোখে-মুখে দেখা গেছে ভয় ও আতঙ্ক।
শুক্রবার রাতে অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পর তাকে ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি রাখা হয়েছে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গ্রেপ্তার ইমারত হোসেনকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
ইমারত হোসেনের বাড়ি রংপুর নগরীর বাহার কাছনা রামগোবিন্দ বালাটারী এলাকায়। তার বাবার নাম আবুল হোসেন ব্যাপারী।
মামলার এজাহার থেকে গেছে, শুক্রবার কওমি মাদ্রাসার ওই শিশু শিক্ষার্থী মায়ের সঙ্গে প্রতিবেশীর বাড়িতে যায়। সেখানে মা গল্পে মগ্ন থাকায় শিশুটি বাড়ির বাইরে রাস্তায় বের হয়। এ সময় একা পেয়ে ইমারত হোসেন শিশুটিকে পাশের বাঁশঝাড়ে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ‘ধর্ষণ’ করেন।
শিশুটিকে দেখতে না পেয়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। অনেকক্ষণ পর ইমারত শিশুটিকে রাস্তায় স্বজনদের কাছে দিয়ে চলে যান। পরে বাড়িতে ফিরে শিশুটি জানায়, ওই ব্যক্তি তার সঙ্গে জোরপূর্বক ‘খারাপ কাজ’ করেছেন। রাতে অসুস্থ হয়ে পড়লে স্বজনরা তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন।
ঘটনা জানাজানি হলে রাতেই ইমারত হোসেনকে খুঁজতে শুরু করেন স্থানীয়রা। বিষয়টি টের পেয়ে তিনি স্থানীয় এক ব্যক্তির বাড়িতে লুকিয়ে আত্মরক্ষার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা ওই বাড়ি ঘিরে তাকে ধরার চেষ্টা করেন। উত্তেজিত জনতা ইমারতকে পুলিশের কাছে হস্তান্তরে বাধা দেন। তারা ঘটনাস্থলেই বিচারের দাবি তুলে বিক্ষোভ করেন।
হারাগাছ থানা পুলিশ জানায়, রাত সাড়ে ১০টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবার মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে বিক্ষুব্ধ লোকজন অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে নিজেরাই বিচার করার চেষ্টা করছিলেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
পরে গোয়েন্দা বিভাগের উপকমিশনার সনাতন চক্রবর্তীসহ কোতোয়ালি ও হারাগাছ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা প্রায় সাড়ে তিন ঘণ্টা স্থানীয়দের বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন। এরপর ইমারত হোসেনকে মাথায় হেলমেট পরিয়ে পুলিশের হেফাজতে থানায় নেওয়া হয়।
শিশুটির বাবা বললেন, ‘এতটুকু একটা শিশুর ওপর এমন পাশবিক নির্যাতন কোনো মানুষ করতে পারে! ছোট্ট মেয়েটির চোখে-মুখে এখন ভয় আর আতঙ্ক। শরীরে যন্ত্রণা নিয়ে হাসপাতালের বেডে রয়েছে শিশুটি।’ তিনি নির্যাতনকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।
হারাগাছ থানার ওসি অশোক চৌহান জানান, এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ইমারত হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।



