চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্রের তীররক্ষা বাঁধে ফের ধস

ছবি: আগামীর সময়
কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ব্রহ্মপুত্র নদের তীররক্ষা বাঁধে আবারও ধস নেমেছে। রানীগঞ্জ ইউনিয়নের কাঁচকোল কেডিওয়ারী এলাকায় প্রায় ৪০ মিটার বাঁধ নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। এতে আশপাশের আবাদি জমি ও বসতবাড়ি নিয়ে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বাঁধের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে।
স্থানীয়রা জানান, দীর্ঘদিন ধরেই সেখানে প্রায় দেড় কিলোমিটার বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এর আগেও কয়েক দফায় বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিলে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে জিওব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল। তবে স্থায়ী ব্যবস্থা না হওয়ায় ফের ভাঙন শুরু হয়েছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের স্থান পরিদর্শন করেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
স্থানীয় মাহবুবুর রহমান, মানিক ও শাহিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বাঁধটি ঝুঁকিপূর্ণ থাকলেও স্থায়ীভাবে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ করে বাঁধের প্রায় ৪০ মিটার অংশ নদীতে ধসে পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে নদীভাঙনে বসতভিটা ও আবাদি জমি হারানোর আশঙ্কা রয়েছে। তারা বাঁধ রক্ষায় দ্রুত স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি ফজলুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি জানান, সংসদ সদস্যের সঙ্গে আলোচনা করে ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত জিওব্যাগ বরাদ্দের বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। পাশাপাশি ভাঙন প্রতিরোধে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরাও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবেন বলে তিনি জানান।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিবুল হাসান বলেন, ব্রহ্মপুত্র নদের কাঁচকোল এলাকায় প্রায় ৪ দশমিক ১ কিলোমিটার অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। এ বিষয়ে একটি ডিপিপি দাখিল করা হয়েছে। প্রস্তাবিত প্রকল্পে বাঁধের পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে এই এলাকার দীর্ঘদিনের ভাঙন ও বাঁধসংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।




