কালিয়াকৈর সরকারি কলেজে বিক্ষোভ, ‘চকলেট বোমা’ বিস্ফোরণ

কালিয়াকৈর সরকারি কলেজ— সংগৃহীত
গাজীপুরের কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় কলেজের বিভিন্ন স্থাপনার কাচ ভাঙচুর এবং কয়েকটি ‘চকলেট বোমা’ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
আজ রবিবার দুপুরে কালিয়াকৈরের চন্দ্রা এলাকায় অবস্থিত কালিয়াকৈর সরকারি কলেজে এ ঘটনা ঘটে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ৫ আগস্টে গণঅভ্যুত্থান স্মরণে আয়োজিত রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন না করে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আহমাদুল্লাহ ও উপাধ্যক্ষ ইশতিয়াক হোসেন টাঙ্গুয়ার হাওরে আনন্দভ্রমণে বেড়াতে যান। শিক্ষার্থীরা এটিকে জুলাই-আগস্টের চেতনার প্রতি অবমাননা হিসেবে দেখছেন। এ কারণে তারা অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের পদত্যাগের দাবি জানিয়েছেন।
শিক্ষার্থী জিহাদ হোসেন বলেছেন, ‘৫ আগস্টের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচি যথাযথভাবে পালন না করে কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ টাঙ্গুয়ার হাওরে আনন্দভ্রমণে গেছেন। বিষয়টি আমরা জুলাই-আগস্টের চেতনার অবমাননা হিসেবে দেখছি। আমাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আমরা পাঠদান থেকে বিরত থাকব।’
এদিকে উপাধ্যক্ষ ইশতিয়াক হোসেনের বিরুদ্ধে পরীক্ষাসংক্রান্ত বিভিন্ন ফি আদায়েরও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থীরা। তাদের দাবি, পরীক্ষার ফি বাবদ ৬৫০ টাকা এবং অ্যাডমিট কার্ড দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত ১০০ টাকা নেওয়া হয়।
শিক্ষার্থী শিহাব হোসেন অভিযোগ করে বললেন, ‘পরীক্ষা চলাকালীন উপাধ্যক্ষ স্যার আমাদের কয়েকজনের চুল কেটে দিয়েছেন। তিনি চাইলে সতর্ক করতে পারতেন। কিন্তু পরীক্ষার সময় চুল কেটে দেওয়ায় আমরা অপমানিত বোধ করেছি। এ ঘটনার প্রতিবাদ জানাচ্ছি।’
তবে শিক্ষার্থীদের এসব অভিযোগের বিষয়ে কলেজ কর্তৃপক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
কলেজের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক সেলিম হোসেন বলেছেন, ‘সরকারি প্রজ্ঞাপন পাওয়ার পর আমরা শিক্ষার্থীদের অবগত করে ৩ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত জুলাই-আগস্টের কর্মসূচি পালন করি। পরে ৫ আগস্ট নিকলী-টাঙ্গুয়ার হাওরের আনন্দভ্রমণে যাওয়া হয়।’
এদিকে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের খবর পেয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শহিদুল ইসলাম ও অপারেশন কর্মকর্তা রবিউল ইসলামসহ পুলিশের সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
কালিয়াকৈর থানার ওসি মো. শহিদুল ইসলাম বলেছেন, ‘কালিয়াকৈর সরকারি কলেজে শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছি।’
ঘটনার পর থেকে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আহমাদুল্লাহ ও উপাধ্যক্ষ ইশতিয়াক হোসেন কলেজে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় কলেজজুড়ে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি বিরাজ করছে।





